মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
হুদা কমিশনের এক বছর
নূরুল ইসলাম নিরব
Published : Wednesday, 14 February, 2018 at 10:11 PM

চ্যালেঞ্জের মুখে দায়িত্ব নিয়ে সফলতার সঙ্গে এক বছর পর করলেন কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। বুধবার ছিল পাঁচ সদস্যের এই কমিশনের শেষ দিন। বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় বছরের পদার্পণ করবেন হুদা কমিশন। 

রকিব কমিশনের বিদায়ের পর গত বছর এই দিনে দায়িত্ব নেয় নতুন ইসি। তখন ইসির ওপর ভোটারদের আস্থা না থাকায় নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হন বর্তমান কমিশন। কিন্তু নিজেদের কর্মদক্ষতায় সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে পেরে আজ গর্বিত তারা। তবে চলে যাওয়া বছরটি সুনামের সঙ্গে পার করতে পারলেও চলতি বছর হবে ইসির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বছর। কেননা এ বছরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ সিটির নির্বাচন করতে হবে তাদেরই। তাই কিছুটা হতাশা থাকলেও চলতি বছরও আস্থার সঙ্গে পার করবেন বলে আশাবাদী কমিশন। 

এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আজকালের খবরকে বলেন, বিগত বছরটি ছিলও ইসির জন্য একটা কঠিন সময়। দায়িত্ব নেওয়ার সময় জনগণের আস্থা শূন্যের কোটায় ছিল। কিন্তু আমরা নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি আর বলেন, চলতি বছরও আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে সক্ষম হবো। এদিকে গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা সংবিধান, আইন ও বিবেক অনুযায়ী কাজ করছি। আমাদের কাজের মূল্যায়নের দায়িত্ব জনগণের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে এই কমিশনার বলেন, আমাদের সামনে একটি বড় কাজ রয়েছে। সেটার লক্ষ্যে আমরা এগুচ্ছি। আমরা আশা করছি জাতিকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয়ও নির্বাচনও উপহার দিতে পারব। 

পাঁচ বছর মেয়াদি এই কমিশন দায়িত্বের প্রথম বছরে কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশনসহ বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া করেছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও। বিদায়ী কমিশনের বন্ধ করে দেওয়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনেরও (ইভিএম) পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করেছে এই কমিশন। এজন্য প্রশংসাও কুড়িয়েছেন বর্তমান হুদা কমিশন। বছরের মাঝামাঝিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রোডম্যাপ প্রণয়ন করে সেই অনুযায়ী পথ চলছে এই কমিশন।

কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে কমিশন রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করে। তবে কমিশন প্রথমদিকে রোডম্যাপে পথ চলতে শুরু করলেও মাঝপথে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। অনুষ্ঠিত সংলাপের প্রস্তাবনা গত ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরি করার প্রতিশ্রæতি থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। একই সময়ের মধ্যে সীমানা পুনর্র্নির্ধারণের গেজেট প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা আটকে গেছে। এছাড়াও ঢাকার দুই সিটিতে যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডের তফসিল ঘোষণা ও আনিসুলের সিটিতে নির্বাচন করার জন্য তফসিল ঘোষণার পরও আদালতের রায়ের কারণে নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। 

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। ভোট করতে হবে হবে এ বছর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। সিলেট সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। ভোট করতে হবে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। খুলনা সিটিতে ভোট করতে হবে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। রাজশাহীতে ভোট করতে হবে ৫ অক্টোবরে মধ্যে। এছাড়া বরিশাল সিটিতে ভোট করতে হবে আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে। এ বছরের মাঝামাঝি একই দিনে এসব সিটিতে ভোট করতে চায় ইসি। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের নাম সুপারিশ করেছিল সার্চ কমিটি। রাষ্ট্রপতি ওই ১০ জনের তালিকা থেকে পাঁচজনকে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। 

আজকালের খবর/এসএ




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮।  বিজ্ঞাপন- ০১৯৭২৫৭০৪০৫, ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সাকুলের্শন- ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com