শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮
বিশাল অধ্যায় শেখ হাসিনা
হাবীব রহমান
Published : Thursday, 11 January, 2018 at 9:25 PM

দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের চার বছর পূর্তি ১২ জানুয়ারি, কাল। এর মধ্য দিয়ে রেকর্ডও গড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার একটানা দুই মেয়াদের শাসনামলের নয় বছর পূর্ণ হলো। এর আগে সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় ছিলেন আট বছর ২৫২ দিন। 

বিগত নয় বছরে শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, বিশ্ব রাজনীতির বাঁকে বাঁকে ছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সতর্ক ও দৃপ্ত পদচারণা। ২০১৪ সালের সাংবিধানিক নির্বাচনের পর বৈশ্বিক স্বীকৃতি ছিল শেখ হাসিনার দূরদর্শী ক‚টনীতির অংশ। রাজনীতি বা পররাষ্ট্রনীতিতেই নয়, কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও একটি বাড়ি একটি খামারের মতো বেশ কিছু উদ্ভাবনী প্রকল্প এবং দেশের অগ্রসরমান অর্থনীতি জানান দেয় শেখ হাসিনার অর্থনীতিও দেশের জন্য সফলতা নিয়ে এসেছে। সততা ও কর্মদক্ষতায় বিশ্বের বড় বড় দেশের রাষ্ট্রনায়কদের পেছনে ফেলে শেখ হাসিনা চলে এসেছেন সামনের কাতারে। বিভিন্ন গবেষণায় সৎ ও কর্মঠ রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু মানবিকতার কথা ভেবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছেন মানবতার মাতা- ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’। লৌহশক্তির বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ধ্বংসস্ত‚প থেকে মেরুদÐ সোজা করে দাঁড়ানোর কাজ শুরু করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গড়ে তোলেন আর্থিক ভিত্তি। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কাল রাতে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর শুরু হয় অনিয়ম-লুটপাটের রাজত্ব। বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য বটমলেস বাস্কেট বা তলাবিহীন ঝুড়ি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনীতি, মানবিকতা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও সাহসিকতা আর অনেক সাফল্যে সেই ‘বটমলেস বাস্কেটের’ পরিচয় মুছে ফেলে বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বে সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ হিসেবে স্বীকৃত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিশাল অধ্যায় ‘শেখ হাসিনা’। 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে পুরনো পাকিস্তানের ধারায় চালিয়েছে সামরিক শাসকরা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শাসকরা বাংলাদেশকে স্বাধীনতার চেতনা থেকে দূরে নিয়ে যায়। 
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বিদেশে থাকায় বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানাকে বাংলাদেশ  থেকে নির্বাসিত করে রেখেছিল ওই সময়ের শাসকরা। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যাকে দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয় দেশের বাইরে।

৮০’র দশকের শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তররসূরি শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে সম্মেলনের মাধ্যমে। তিনি দলের দায়িত্ব নিয়েই জেনারেল জিয়ার সামিরক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই দেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত হন। শেখ হাসিনা মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির বুকে চেপে বসা জগদ্দল পাথরের মতো সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সফল হয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বারবার বুলেট ও গ্রেনেডের মুখ থেকে বেঁচে ফেরা বহ্নিশিখা। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের কল্যাণই তার রাজনীতির দর্শন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার সততা স্বীকৃত। তবে সরকার ও দলের সবাই যে শেখ হাসিনার মতোÑ তেমন নয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে যেমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি উদার গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশেরও প্রতিচ্ছবি শেখ হাসিনা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ ও বৈশ্বিক পরাশক্তির রক্তচক্ষুর সামনে দাঁড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর তার রাজনৈতিক দৃঢ়তার দৃষ্টান্ত। তাই বারবার স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক অপশক্তি বুলেট ও গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই জনগণের বিপুল ভালোবাসা ও সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচেছেন বাংলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে ইতিহাসের  কলঙ্কিত ঘটনা ঘটে। যুদ্ধক্ষেত্রে যে আর্জেস গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় সেই একই গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালানো হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। ইতিহাসের বর্বরোচিত ওই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ নিহত হন আওয়ামী লীগের ২৪  নেতাকর্মী।
 
শেখ হাসিনার মতো ভিশনারি, কর্মঠ ও সৎ নেতা খুঁজে পাওয়া ভার। তৃতীয় বিশ্বের বা উন্নয়নশীল দেশ একজন নেতা কীভাবে দ্রæত এগিয়ে নিতে পারেন তা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। তাই বিশ্বরাজনীতির বিস্ময় শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের উন্নয়নের রাজনীতিতে কখনো এতটা স্থিতিশীলতা আসেনি, যা শেখ হাসিনার সময়ে এসেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নির্বাচিত বা অনির্বাচিত শাসক শেখ হাসিনার মতো টানা নয় বছর ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এই কথাটি এভাবে বলা যায়, শেখ হাসিনার মতো বিপুল জনপ্রিয়তা এবং জনবান্ধব নেতা হিসেবে টিকে থাকতে পারেনি। এই দিক বিবেচনা করলে শেখ হাসিনা এমন এক রেকর্ড গড়েছেন যা এক কথায় অনন্য এবং অসাধারণ। শুধু অসাধারণই না এই  ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা অদ্বিতীয়ও বটে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপে বর্তমানে আওয়ামী লীগের চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় শেখ হাসিনা। তার মানে, দল-মত নির্বিশেষে জনগণ ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে পছন্দ করে।
বিদ্যুতের মতো মৌলিক চাহিদার দাবিতে মানুষ এক সময় রাস্তায় নেমেছে, প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু বিগত সরকারগুলো বিদ্যুৎ তো দিতেই পারেনি উপরন্তু বিদ্যুতের দাবিতে যে মানুষগুলো রাস্তায় নেমেছিল তাদের গুলি করেছে। শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং চলতি ২০১৮ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায়। আর ২০১৮ সালের মধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা সম্ভব হবে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে।

শেখ হাসিনার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ এমন কিছুর সাক্ষী হয়েছে যা কল্পনাতীত ছিল। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক যখন বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করে তখন শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পারে, আমরাও পারি। সম্পূর্ণ দেশের টাকায় বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মেগা প্রজেক্ট এই পদ্মা সেতুর কাজ এরই মধ্যে অর্ধেক শেষ হয়েছে। 
অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক বিস্ময় বিশ্ববাসীর কাছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০১৭ সালে অর্থনৈতিক সাফল্যে বিশ্বে বাংলাদেশকে কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করেছে বিশ্ববিখ্যাত পত্রিকা দ্য ইকোনোমিস্ট। অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য দেখিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। 

তবে নয় বছরের শাসনামলে কিছু ব্যর্থতার দিকও রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ। বিভিন্ন এলাকায় শাসক দলের কিছু নেতার কার্যক্রমে সরকারের ভাবমূর্তি  ক্ষুণœ হয়েছে। বেসিক ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বারবার উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। 

আজকালের খবর/এসএ




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮।  বিজ্ঞাপন- ০১৯৭২৫৭০৪০৫, ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সাকুলের্শন- ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com