শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮
হায় শিশুসাহিত্য!
জাহাঙ্গীর আলম জাহান
Published : Thursday, 11 January, 2018 at 5:31 PM

জাতীয় দৈনিকগুলোর অনেক বিভাগের মধ্যে অন্যতম একটি বিভাগ হচ্ছে শিশুসাহিত্য। আমাদের দেশে দু’একটি বাদে প্রায় সব দৈনিকেই সপ্তায় একদিন শিশুসাহিত্যের পাতা প্রকাশ পায়। এটি পত্রিকার একটি ইতিবাচক দিক। শিশুসাহিত্যের বিভাগগুলোর নামও বৈচিত্র্যময়। নামগুলোর মধ্যে শিশুমনস্তত্তে¡র প্রতি পত্রিকা কর্তৃপক্ষের আগ্রহ ও আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে এই আন্তরিকতা কতটা নির্মোহ ও অকৃত্রিম সে প্রশ্ন আজও অমিমাংসিত।

বলতে দ্বিধা নেই যে, সাম্প্রকিতকালে বাংলাদেশের প্রায় সব দৈনিকের শিশুসাহিত্য বিভাগই কর্পোরেট বাডুজ্যের বিজ্ঞাপনী থাবায় ক্ষত-বিক্ষত কিংবা পর্যুদস্ত। নামি-দামি কোম্পানিগুলোর বাহারি বিজ্ঞাপনের চাপায় জাতীয় দৈনিকের শিশুসাহিত্য বিভাগগুলো আজ অস্তিত্ব-সঙ্কটের মুখোমুখি। না, এ-জন্য শুধু কর্পোরেট বাডুজ্যকে দায়ী করলে চলবে না। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের অর্থলিপ্সাও এর জন্য কম দায়ী নয়। পত্রিকা পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন অস্বীকার করা যাবে না। এ-জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিজ্ঞাপন পত্রিকাগুলো গ্রহণ করবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা এই প্রতিযোগিতার বাজারে শুধু পত্রিকা বিক্রির অর্থ দিয়ে একটি দৈনিক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। পত্রিকাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতেই হবে। বলা যায়, বিজ্ঞাপনলব্ধ অর্থই একটি পত্রিকার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। কিন্তু প্রশ্ন জাগে তখনইÑ যখন পত্রিকাগুলো শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন ছাপানোর জন্য পত্রিকার নিয়মিত একটি বিভাগকে বলিরপাঁঠা বানায়। আর এ-রকমটি সাধারণত পত্রিকার শিশুসাহিত্য বিভাগের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি ঘটে। পত্রিকার পাঠকেরা নিশ্চয়ই লক্ষ করে থাকবেন যে, সপ্তাহের একটি নির্ধারিত দিনে যখন তার প্রিয় পত্রিকায় শিশুসাহিত্য বিভাগটি প্রকাশ পাওয়ার কথা ঠিক সেদিনই ‘অনিবার্য কারণ’-এর অজুহাত দেখিয়ে শিশুসাহিত্য পাতাটি প্রকাশ করা হয় না। বরং পাঠক বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেন যে, সেদিন শিশুসাহিত্যের জন্য নির্ধারিত পাতাটিতে ছাপা হয় বড় কোনো কোম্পানির বাহারি বিজ্ঞাপন। যে বিজ্ঞাপনের বিনিময়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ লাভ করেন মোটা অঙ্কের লোভনীয় অর্থ। অথচ কর্তৃপক্ষ শিশুসাহিত্যের পাতাটি বন্ধ না রেখেও ওইদিন বাড়তি পাতা সংযোজন করে বিজ্ঞাপনটি ছাপতে পারতেন। কিন্তু তা না-করে শিশুসাহিত্য বিভাগকে তোলা হয় হাড়িকাঠে। বঞ্চিত করা হয় শিশুসাহিত্যের অনুরাগী পাঠককে। পত্রিকাওয়ালাদের এই বাণিজ্যিক মানসিকতা শিশুসাহিত্যের প্রতি তাদের বিরাগ ও অনাগ্রহী দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচায়ক। কর্পোরেট বাডুজ্যের লোভনীয় প্রভাবে শিশুসাহিত্যের পাতা ক্রমেই অস্তিত্ব-সঙ্কটে নিপতিত হচ্ছে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছেও পাতাটি পরিণত হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন একটি বিভাগে। তা নইলে আমরা বরাবরই শিশুসাহিত্য বিভাগ বন্ধ হওয়ার প্রাক-আলামত দেখছি কেন?

শুধু কি তাই, বিশেষ বিশেষ দিবস বা উৎসব উপলক্ষে জাতীয় পত্রিকায় সাহিত্য সাময়িকীর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু শিশুসাহিত্যের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের খুব একটা উদাহরণ নেই। বিশেষ দিবস বা উৎসবকে কেন্দ্র করে (ঈদ, নববর্ষ ইত্যাদি) প্রায় সব পত্রিকাই সাহিত্য পাতার পৃষ্ঠাসংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। অথচ আজ অব্দি একটি দৈনিকও শিশুসাহিত্যের জন্য পৃষ্ঠাসংখ্যা কমানো ছাড়া বাড়িয়েছে তা বলা যাবে না। ঈদ বা নববর্ষ উপলক্ষে আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলো সাহিত্য বিভাগের বর্ণাঢ্য ও বর্ধিত সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে, কিন্তু শিশুসাহিত্যের জন্য নির্ধারিত অর্ধপৃষ্ঠার স্থলে পূর্ণপৃষ্ঠা কিংবা পূর্ণপৃষ্ঠার স্থলে দুই পৃষ্ঠা বরাদ্দ দিয়েছেÑ এ রকম উদাহরণ সম্ভবত একটিও নেই। মূল সাহিত্য থেকে শিশুসাহিত্যকে আলাদা করে দেখার এবং গুরুত্বহীন হিসেবে বিবেচনা করার এই মানসিকতা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রমও আছে। গত ক’বছর ধরে একটি পত্রিকা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ম্যাগাজিন সাইজে ঢাউস আকৃতির  শিশু সাহিত্যের বিশেষ বর্ধিত সংখ্যা প্রকাশ করে আসছে। তাদের এই প্রকাশনা নিঃসন্দেহে শিশুসাহিত্যের প্রতি তাদের আন্তরিক দায়বোধকেই প্রমাণ করে। এ-জন্য ওই পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ অবশ্যই অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য।

বলতে দ্বিধা নেই, জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকীগুলো পাঠকমহলে জ্ঞানালোক ছড়াতে বিশেষ ভূমিকা রেখে থাকে। একইভাবে শিশুসাহিত্যের পাতাগুলোও শিশুর মনোজগতে সৃজনশীলতার প্রণোদনা যোগায়। সারাবিশ্বেই পত্রিকা-পাঠকদের মধ্যে রুচি-বৈচিত্র লক্ষণীয়। কোনো কোনো পাঠক পত্রিকা হাতে নিয়ে প্রথমেই প্রধান প্রধান শিরোনামগুলো দেখেনিতে অভ্যস্ত। কেউ কেউ প্রথমেই চোখ বুলান ক্রীড়া বিষয়ক পাতায়। কেউ আবার পছন্দ করেন বিনোদন পাতা। চাকরিপ্রার্থী বেকারেরা পত্রিকা হাতে নিয়ে প্রথমেই খোঁজেন চাকরির বিজ্ঞপ্তি। ব্যবসায়ী আর ঠিকাদারেরা প্রথমেই দেখে নেন পত্রিকায় আজ কী কী দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয়েছে ইত্যাদি। অন্যদিকে যারা সাহিত্য অন্তঃপ্রাণ এবং যারা লেখালেখির সঙ্গে জড়িত তারা সপ্তাহান্তে পত্রিকার সাহিত্য পাতার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন। পাঠকদের এই রুচি-ভিন্নতার বিষয়টি মাথায় রেখেই জাতীয় পত্রিকার বিভিন্ন বিভাগ সাজানো হয়। প্রতিটি বিভাগের জন্য সে কারণেই পত্রিকাগুলোতে পৃথক পৃথক বিভাগীয় সম্পাদকের পদও রাখা হয়েছে।

সাহিত্য-রসিক পত্রিকা-পাঠকদের কাছে নিশ্চয়ই স্পষ্ট যে, আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলোতে শিশুসাহিত্যের বিভাগটি সবচেয়ে অনাদর ও অবহেলায় প্রকাশ পেয়ে থাকে। এ বিভাগের জন্য পত্রিকায় এত কম স্পেস দেওয়া হয় যে, দেখে মনে হয় পত্রিকা কর্তৃপক্ষ অনেকটা না পেরেই শিশুসাহিত্যের বিভাগটি অন্তর্ভূক্ত করেছেন। এটি না রাখলেও পত্রিকার কোনো ক্ষতি নেই; কিংবা সাহিত্যেরও কিছু যায়-আসে না। অনেক পত্রিকাই তো শিশুসাহিত্য দূরে থাক, সাহিত্যের পাতাই প্রকাশ করে না। তাতে কি পত্রিকার কাটতি কম হচ্ছে, নাকি বিজ্ঞাপন কম পাওয়া যাচ্ছে? এই ধারণাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। পত্রিকায় সাহিত্য বা শিশুসাহিত্যের পাতা একেবারে না রাখা হলে সেটি ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু যদি রাখাই হয় তাহলে যথাযথ মর্যাদায় রাখাটিই যুক্তিযুক্ত। মাঝে মাঝে রেখে মাঝেমাঝে না রাখাটি লেখক ও পাঠকদের জন্য নিতান্তই পীড়াদায়ক। পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

যারা জাতীয় দৈনিকগুলোতে শিশুসাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন তারা সপ্তাহান্তে শিশুসাহিত্যের পাতাটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন। উন্মুখ অপেক্ষার পর সপ্তাহান্তে যখন তিনি প্রিয় দৈনিকটিতে শিশুসাহিত্যের পাতা খুঁজে পান না কিংবা শিশুসাহিত্যের নির্ধারিত পাতায় বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি দেখেন তখন আশাভঙ্গের যাতনায় তিনি কতটা পীড়িত হন তা বলে বোঝানো যাবে না। একজন অনুরাগী পাঠককে এভাবে পীড়িত বা মর্মাহত করার অধিকার করোরই থাকতে নেই।

আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলোতে সপ্তায় একদিন আধাপৃষ্ঠা বা পূর্ণপৃষ্ঠা শিশুসাহিত্যের জন্য বরাদ্দ রাখাটি অনেক ক্ষেত্রেই পত্রিকা কর্তৃপক্ষের আন্তরিক বিবেচনা-প্রসূত নয়। কিংবা এই বরাদ্দের বিষয়টি শিশুসাহিত্যের প্রতি পত্রিকাওয়ালাদের গভীর প্রেমের বহিঃপ্রকাশÑ সে কথাও জোর দিয়ে বলা যাবে না। তদুপরি পত্রিকার মালিকপক্ষ সপ্তায় একদিন শিশুসাহিত্যের জন্য যে স্পেসটকুু দিচ্ছেন তা-ও যদি ছেদহীনভাবে অব্যাহত রাখা হয় তাতেই-বা কম কিসে। কিন্তু সেটিও তো ঘটতে দেখি না। বরং পত্রিকার অনুরাগী পাঠকেরা অসহায় দৃষ্টিতে বিত্তের কাছে চিত্তের পরাজয়ই শুধু দেখে আসছেন। তারা দেখছেন আমাদের অধিকাংশ পত্রিকাই দিনে দিনে প্রকৃত গণমাধ্যমের চরিত্র হারিয়ে অতিমাত্রায় বাণিজ্যপ্রবণ হয়ে উঠছে। পত্রিকার মাধ্যমে সৃষ্টিশীলতার পৃষ্ঠপোষকতা অপেক্ষা টু-পাইস কামানোই যেন এখন প্রধান লক্ষ্য। যে কারণে পত্রিকায় যারা লেখালেখি করেন বিশেষ করে শিশুসাহিত্যিকেরাও খুব অসহায়ভাবেই পত্রিকার বাণিজ্য-প্রবণতা এবং শিশুসাহিত্যের প্রতি পত্রিকাগুলোর দুঃখজনক অবহেলা প্রত্যক্ষ করছেন। বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় বিজ্ঞাপনের কাছে পরাস্ত হচ্ছে শিশুসাহিত্যের পাতা। অস্তিত্ব-সঙ্কটে ধুকপুক করছে আমাদের প্রিয় অঙ্গন, প্রিয় শিশুসাহিত্য। শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রায়শই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে শিশুসাহিত্যের বিভাগ। অথচ আজ অবধি অন্য কোনো পাতার ওপর এ-রকম বিজ্ঞাপনী খড়গ নেমেছে বলে জানা যায়নি। এ থেকেই প্রমাণিত হয় যে, শিশুসাহিত্যের পাতাটি পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি গৌণ এবং আপাত গুরুত্বহীন বিভাগ বলেই বিবেচিত। সুতরাং মোটা অঙ্কের বাহারি বিজ্ঞাপনের চাপায় দৈনিকের শিশুসাহিত্যের পাতা ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ বলে হাঁসফাঁস করছে।

একসময় দৈনিক ইত্তেফাকের কচিকাঁচার আসর, দৈনিক বাংলার সাতভাই চম্পা, দৈনিক সংবাদ-এর খেলাঘর, দৈনিক আজাদ-এর মুকুলের মাহফিল এবং দৈনিক পূর্বদেশ-এর চাঁদের হাট প্রভৃতি বিভাগগুলো শিশুসাহিত্যের পরিচর্যা ও বিকাশে কী অসাধারণ ভূমিকাই-না রেখেছে! ‘কিশোরবাংলা’ আর ‘ধানশালিকের দেশ’ নামক সাহিত্যের কাগজ ছাড়াও জাতীয় দৈনিকগুলোর শিশুপাতার অসাধারণ ভূমিকার ঔজ্জ্বল্য আজও এদেশের সাহিত্য-আকাশে ধ্রæবতারার মতো জ্বলজ্বল করছে। জাতীয় দৈনিকের এ সকল বিভাগকে কেন্দ্র করে এদেশে বিকশিত হয়েছিল সুস্থ ধারার সৃজনশীল সাহিত্য আড্ডা। সেই আড্ডার ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয়েছে অনেক প্রতিভাধর ও গুণী শিশুসাহিত্যিক। এই শিশুসাহিত্যিকেরাই আজ বাংলা শিশুসাহিত্যে একেকজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। দৈনিকগুলো যদি শিশুসাহিত্য বিকাশে আন্তরিক ভূমিকা না রাখতো তাহলে আমরা বাংলা শিশুসাহিত্যে আজকের খ্যাতিমান নক্ষত্রদের হয়তো দেখতে পেতাম না। এ থেকেই জাতীয় দৈনিকগুলোর শিশুসাহিত্য বিভাগের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু সাম্প্রকিতকালে শিশুসাহিত্যের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিকগুলোর সেই ভূমিকা অতটা জোরালো বলে মনে হয় না। সবকিছুতেই কেমন যেন কৃত্রিমতা এবং গা-ছাড়া ভাব লক্ষণীয়। কর্পোরেট বাণিজ্যের আগ্রাসী থাবা এবং পত্রিকা কর্তৃপক্ষের অর্থলিপ্সু বিজ্ঞাপন-নির্ভরতা শিশুসাহিত্যের পাতাকে কেমন যেন অপ্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বহীন করে তুলছে। শুধু তাই নয়, পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছেও শিশুসাহিত্যের পাতাটি যেন একটি বাহুল্য আয়োজন ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ-কথা সবাই স্বীকার করবেন যে, শিশুসাহিত্যের একটি অন্যতম ও প্রধান অনুষঙ্গের নাম ছড়া। সময়ের বিবর্তনে ছড়ার বৈশিষ্ট্য ও চারিত্রে অনেকটাই বদলে গেছে। ছড়া এখন শুধুই শিশুতুষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়া হয়ে গেছে বক্তব্য প্রধান ও ঘুমজাগানিয়া শিল্পমাধ্যম। সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের অবনতি, নৈকিততার পতন এমনকি ঘটমান অনিয়ম-অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ছড়া এখন চকচকে বর্শার ফলার মতো ঝল্সে ওঠে। অর্থাৎ প্রতিবাদ প্রকাশের উৎকৃষ্ট ভাষা হচ্ছে ছড়া। তীর্যক শ্লেষ ও ব্যঙ্গ-বিদ্রæপের মাধ্যমে ছড়ার ভাষায় এখন সুতীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়।
ছড়া তথা শিশুসাহিত্যের প্রতি জাতীয় দৈনিকগুলোর সাম্প্রকিত অবহেলাসূচক আচরণ অবশ্যই দুঃখজনক। পত্রিকাগুলো সাহিত্য সাময়িকীর জন্য প্রতি সপ্তায় চার থেকে আট পৃষ্ঠা বরাদ্দ রাখুক তাতে কারোরই আপত্তি নেই। কিন্তু সেই সাথে শিশুসাহিত্যের জন্যও সপ্তায় এক বা দুই পৃষ্ঠা বরাদ্দ রাখতে অসুবিধা কোথায়? এমনকি বড় কোনো বিজ্ঞাপন প্রাপ্তির কারণে শিশুবিভাগের প্রকাশনা কেন বন্ধ রাখা হবে? কেনই-বা শিশুসাহিত্যের নির্ধারিত পাতায় বিজ্ঞাপনী খ—গ চাপিয়ে শিশুসাহিত্যের প্রতি অবহেলার দৃষ্টান্ত তৈরি করা হবে? জাতীয় দৈনিকের একজন নিবিষ্ট পাঠক তথা একজন ক্ষুদ্র ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক হিসাবে এ প্রশ্নের সদুত্তর খোঁজা অন্যায় কিছু নয়। জাতীয় পত্র-পত্রিকার শিশুসাহিত্য বিভাগের ওপর থেকে কর্পোরেট বাণিজ্যের বিজ্ঞাপনী আগ্রাসন যেমন দূর হওয়া জরুরি, তেমনি শিশুসাহিত্যের প্রতিও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের অবজ্ঞাসূচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাচ্ছিল্যপূর্ণ মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তবেই হয়তো বুক ফেটে আর কোনোদিন বেরুবে না অন্তর্ভেদী যাতনার অনুক্ত চিৎকার, ‘হায় ছড়া! হায় শিশুসাহিত্য!!


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮।  বিজ্ঞাপন- ০১৯৭২৫৭০৪০৫, ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সাকুলের্শন- ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com