শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮
‘ও’ লেবেলে নতুন গ্রেডিং
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Thursday, 11 January, 2018 at 5:08 PM, Update: 11.01.2018 5:14:48 PM

যুক্তরাজ্যের কারিকুলামে পরিচালিত ‘ও’ লেবেলের পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে বর্ণমালার পরিবর্তে সংখ্যায় ফলাফল প্রকাশিত হবে। বর্তমানে যারা নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে তাদের থেকে নতুন এ পদ্ধতি চালু হবে। ২০১৯ সালের জুনে নতুন পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশিত হবে।

ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার যুক্তরাজ্যভিত্তিক অন্যতম বোর্ড পিয়ারসন অ্যাডেক্সেলের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর রহমান আজকালের খবরকে বলেন, আগে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ‘এ-স্টার’ থেকে ‘জি’ পর্যন্ত আট ক্যাটাগরিতে ফলাফল প্রকাশ করা হতো। এখন থেকে তা নয় থেকে এক পর্যন্ত সংখ্যায় ফল দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সালের জিসিএসই (জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি অ্যাডুকেশন) পরীক্ষায় নতুন এই গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আগে থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। নতুন এই পদ্ধতি শুধু ‘ও’ লেবেলে (বাংলাদেশে এসএসসি) চালু হবে। 

অ্যাডেক্সেলের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর রহমান জানান, বাংলাদেশে জিসিএসই শিক্ষার্থীরা ক্যামব্রিজ এবং অ্যাডেক্সেল উভয় বোর্ডের অধীনে অধ্যয়ন করে। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অ্যাডেক্সেলের। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং এডেক্সেল এসব শিক্ষার্থীর বোর্ড হিসেবে কাজ করে। উভয় বোর্ডই ব্রিটিশ সরকারের নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করবে। তবে এখন অ্যাডেক্সেল নতুন পদ্ধতিটি বাস্তবায়ন করছে। দুই বোর্ডের পরীক্ষা বছরে দুইবার জানুয়ারি ও জুনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের অন্তত ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। 

অ্যাডেক্সেল কর্মকর্তারা জানান, অ্যাডেক্সেল ২০১৬ সালেই যুক্তরাজ্যে তিনটি ইংলিশ, ইংলিশ লিটারেচার এবং গণিত বিষয়ে পরীক্ষার ফল নতুন পদ্ধতিতে প্রকাশ করে। তবে ২০১৯ সালের পরীক্ষায় নতুন পদ্ধতি চালু করবে ক্যামব্রিজ। জিসিএসই পরীক্ষার ফল এতদিন লেটার গ্রেডে তৈরি করা হতো। ‘এ-স্টার’, ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ইত্যাদি লেটারে (বর্ণ) এতদিন ফলাফল প্রকাশ করা হতো। বর্ণের পরিবর্তে সংখ্যায় প্রকাশ হবে শিক্ষার্থীর অর্জিত ফল। এর ফলে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ‘এক’ থেকে ‘নয়’ পর্যন্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো ফল করা শিক্ষার্থী পাবে গ্রেড-‘নয়’, যেটাকে বাংলাদেশে বলা হয় জিপিএ-৫। নতুন গ্রেডিং পদ্ধতিটা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা মূল্যায়ন আাইইএলটিএস’র ফলের মতো হবে। আইইএলটিএসে সর্বোচ্চ ভালো করা শিক্ষার্থীকেও ব্যান্ড-‘নয়’ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে তা ‘এক’ পর্যন্ত দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, ব্রিটিশ সরকারের নতুন ওই মূল্যায়ন পদ্ধতি গত ২৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। সেখানে এ সম্পর্কে লিখিতভাবে ধারণাপত্র তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকার প্রবর্তিত নতুন ওই মূল্যায়ন পদ্ধতি (যুক্তরাজ্যের) সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন করেছে।
নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফল করা শিক্ষার্থীকে স্বীকৃতি ও আলাদা করতে নতুন এই গ্রেডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে, যা নবম গ্রেড দ্বারা প্রকাশ করা হবে। মধ্যম মানের শিক্ষার্থীদের আগে গ্রেড ‘বি’ ও ‘সি’ দিয়ে মূল্যায়ন করা হতো। ওই স্তরে নম্বরে বড়ধরনের পার্থক্য আছে। এজন্য এই দুই স্তরকে ভেঙে তিনটি করা হয়েছে। এখন থেকে মধ্যমানের ছাত্রছাত্রীদের গ্রেড ‘চার’, ‘পাঁচ’ ও ‘ছয়’ গ্রেড দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া লিখিত পত্রে এই পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়, নতুন এই পদ্ধতির কারণে শিক্ষকরাও ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য জানতে পারবেন। ওই তথ্য ‘এ’ লেবেলে শিক্ষার্থীর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। উচ্চশিক্ষায়ও এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।

কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর রহমান বলেন, যুক্তরাজ্যে আনা নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেছি। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে ধারণা দিতে একটা প্রেজেন্টেশন দিয়েছি। এতে আগের এবং নতুন গ্রেডিং পদ্ধতির মধ্যে তুলনা ও পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা স্তরে ভর্তির জন্য গেলে সেখানে বাংলাদেশের পদ্ধতির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ওই নতুন গ্রেডিং পদ্ধতির করভারসন (রূপান্তর) পদ্ধতি কী হবে- সেটা তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ গত সপ্তাহে আজকালের খবরকে বলেন, ‘অ্যাডেক্সেলের পক্ষ থেকে নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মূলত বাংলাদেশের মূলধারায় উচ্চশিক্ষা স্তরে এসে যুক্ত হতে চায়। তাই ওই পদ্ধতির প্রয়োগ বা সমমানটা কী হবে সেটা ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) ঠিক করবে। আমরা এ ব্যাপারে ইউজিসিকেই দায়িত্ব দেবো।’

জানা গেছে, ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় নতুন প্রবর্তিত গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এগুলোর মধ্যে আছে, লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকস, ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি, ওয়ারউইক ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি, ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ, ম্যানচেস্টার ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি এনএসডব্লিউ। ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকস গ্রেড ‘পাঁচ’কে ‘বি’ হিসেবে গণনা করবে। বাকিগুলো গ্রেড ‘চার’কে ‘সি’ হিসেবে গণনা করবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টান্ত নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ মিডিয়াম পাস করা শিক্ষার্থীদের নতুন গ্রেডিং গণনার বিষয়ে সুপারিশ করতে চাচ্ছে অ্যাডেক্সেল।

আজকালের খবর/আরএম



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮।  বিজ্ঞাপন- ০১৯৭২৫৭০৪০৫, ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সাকুলের্শন- ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com