শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
ব্যাংকে ব্যাংকে অস্থিরতা
শেখ মাহমুদ এ রিয়াত
Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 10:43 PM, Update: 07.12.2017 2:40:50 PM

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো একের পর এক অস্থিরতার কবলে পড়ছে। পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনা আর অদক্ষতার কারণে সৃষ্ট অস্থিরতা ঠেকাতে পরিবর্তনও আনা হচ্ছে ব্যাংকগুলোতে। এ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা। 

ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ আজকালের খবরকে বলেন, দেশে পুরো ব্যাংক খাতের পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যে কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এত ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এজন্যই নতুন ব্যাংকগুলোর অবস্থাও দ্রæত খারাপ হয়ে যাচ্ছে। দুর্বল হয়ে পড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এমপি দাবি করেছেন, প্রভাবশালীদের মালিকানায় থাকা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নৈতিকতার জায়গা থেকে সড়ে আসার কারণেই এ ভয়ের উৎপত্তি, এমন দাবি বিশ্লেষকদের। তবে  কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ায় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এনআরবিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেওয়ান মুজিবর রহমানকে অপসারণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। আগামী দুই বছর কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে অপসারিত এ এমডিকে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে আজকালের খবরের কাছে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন অপসারিত এমডি দেওয়ান মুজিবর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ চিঠি আমি হাতে পেয়েছি। আপিল করবেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এখনও তো আপিল করার সময় আছে। পরে দেখব। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ২০১৬ সালেই এনআরবিসির ৭০১ কোটি টাকা ঋণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসে। এর প্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে পাঠানো পৃথক নোটিসে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ হয়েছে ফরাছত আলীর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। আর এমডি ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাংকটিতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। এমনকি তারা গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতি করেছেন, যা ফৌজদারি আইন অনুযায়ী দÐনীয়। এমডিকে এসব কথা জানিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। 

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং এমডিকে কেন অপসারণ করা হবে না, নোটিসে তা জানতে চাওয়া হয়। ৪৬ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালক ও এমডিকে অপসারণ করা যায়। তবে অজ্ঞাত কারণে চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে ৪৬ ধারার বিষয়টি এড়িয়ে যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নোটিসে ১০টি কারণ তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নোটিসের বিরুদ্ধে দুজনই আদালতে যান। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে রায় এলে গত ৩ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডি নোটিসের জবাব দেন। এরপর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে প্রক্রিয়াটা থমকে থাকে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে ব্যাংকটির একটি পক্ষ অভিযোগ করে যে, সব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিচার প্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন, যা নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর আবারও নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত জুলাইয়ে এমডি দেওয়ান মুজিবর রহমানের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও জবাবের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে জমা দেয় ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। গভর্নর ফজলে কবিরের অনুমোদনের পরই স্থায়ী কমিটিতে যায় এসব নথিপত্র।

বেসরকারি খাতের আরেকটি ফারমার্স ব্যাংকেও সৃষ্টি হয় অস্থিরতা। এ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর প্রকৃত অবস্থা  খতিয়ে  দেখা হচ্ছে। এজন্য ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়, গুলশান ও মতিঝিল শাখায় বিশেষ পরিদর্শন শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রকৃত চিত্র পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এদিকে ব্যাংকটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে এহসান খসরুকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফারমার্স ব্যাংক। খসরু প্রাইম ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর প্রিমিয়ার ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিলেই তার নিয়োগ কার্যকর হবে। এর আগে ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ২৭ নভেম্বর পদত্যাগে বাধ্য হন ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এছাড়া ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক মাহাবুবুল হক চিশতীকেও পদ ছাড়তে হয়। ফারমার্স ব্যাংকে পরিবর্তনের এ ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ফারমার্স ব্যাংক আমানত, ঋণ, খেলাপি হিসাব ও জনবলের যে তথ্য সরবরাহ করছে, তা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই ব্যাংকটির বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া কারা ঋণ নিল, সুবিধাভোগী কারা ও ঋণগুলোর প্রকৃত অবস্থা কী, তা জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

এদিকে ঢাকা ব্যাংকের পরিবর্তন নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত দুই মাসেই ঢাকা ব্যাংকের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে কয়েকটি শিল্প গ্রæপ। অস্বাভাবিক এ লেনদেনের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়াও শুরু করেছেন ব্যাংকটির পরিচালকরা। ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য জানান, কয়েক মাস ধরেই পরিচালকদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে। পর্ষদের গত কয়েকটি বৈঠকেই বিষয়টি নিয়ে কমবেশি আলোচনা হয়েছে। কোনো শিল্প গ্রুপ শেয়ার কিনে ব্যাংকের পর্ষদে আসতে চাইলে বিদ্যমান পরিচালকদের ভ‚মিকা কী হবে, পর্যালোচনা হয়েছে তা নিয়েও। পুঁজিবাজার থেকে কারা ব্যাংকটির শেয়ার কিনছে, সেটি জানার চেষ্টা চলছে। ব্যাংকটির বেশ কয়েকজন পরিচালক তাদের শঙ্কার কথা জানালেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে চাননি তারা। ডিএসইর তথ্যমতে, ৭২২ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি ঢাকা ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৭২ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৭২০। 

গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ব্যাংকটির ৩৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ দশমিক শূন্য চার ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বাকি ৩৬ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

এদিকে নজরদারিতে রয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংকের এক ডজন কর্মকর্তা। ভ্যাট নিবন্ধন থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা সবই ভুয়া। অস্তিত্বহীন এ ধরনের দুই প্রতিষ্ঠানের নামে ১৭টি ঋণপত্র (এলসি) খুলেছে বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংক। এর মাধ্যমে পণ্য আমদানির নামে প্রতিষ্ঠান দুটিকে জালিয়াতির সুযোগ করে দিয়েছে ব্যাংকটি। 

জালিয়াতির এ ঘটনায় আইএফআইসি ব্যাংকের ডজনখানেক কর্মকর্তাকে নজরদারিতে রেখেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অনুসন্ধান বলছে, অনেক দিন ধরেই ব্যাংকটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খুলে জালিয়াতির সুযোগ দিয়ে আসছে। শুধু অ্যাগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি ও হেনান আনহুই অ্যাগ্রো নামে দুই প্রতিষ্ঠানকেই ৯০ কনটেইনার পণ্য আমদানিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জালিয়াতির সুযোগ করে দিয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এর বিনিময়ে ওইসব কর্মকর্তা পেয়েছেন মোটা অঙ্কের কমিশন। পণ্য আমদানির নামে অ্যাগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি ও হেনান আনহুই অ্যাগ্রো নামে দুই প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির অনুসন্ধান শেষে সম্প্রতি রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তাতে প্রতিষ্ঠান দুটির এ জালিয়াতিতে সহায়তাকারী হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নাম এসেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জালিয়াতির ঘটনায় আইএফআইসি ব্যাংক ও চট্টগ্রাম বন্দরের আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা-ও আমলে নেওয়া হবে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অ্যাগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি ও হেনান আনহুই অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী আবদুল মোতালেব আইএফআইসি ব্যাংকের শান্তিনগর ও নয়াপল্টন শাখায় চলতি হিসাব খোলেন। পরে ব্যাংকটির নয়াপল্টন শাখা থেকে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য মোট ১৭টি এলসি উন্মুক্ত করেন। ভুয়া ঠিকানা ও স্বাক্ষরে এলসি খোলায় তাকে সহায়তা করেন আইএফআইসি ব্যাংকের নয়াপল্টন শাখার ইনচার্জ নওশাদ উজ-জামান, ব্যাংক কর্মকর্তা মেহেদী হোসেন, আজিজা বেগম, রিজিভা আক্তার, আবুল কালাম আজাদ ও প্রিন্সিপাল অফিসার ফরহাদ হোসেন। 

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা মূলত বিভিন্ন সময় ভুয়া নাম-ঠিকানা ও ছবি ব্যবহার করে আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে এলসি করেন। চক্রটির সঙ্গে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও জড়িত থাকতে পারেন। তাদের নির্দেশে ব্যাংকের শাখা থেকে প্রতিষ্ঠান দুটির নামে বিভিন্ন সময় এলসি খুলে নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, এ ঘটনায় আইএফআইসি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরাসরি আসামি করা না হলেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে তাদেরও মামলায় আসামি করা হতে পারে।

এছাড়াও সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন মেঘনা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ নূরুল আমিন। গত ১৯ নভেম্বর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার পদত্যাগপত্রটি অনুমোদন করা হয়। নূরুল আমিন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় একটি ঋণখেলাপি হয়।  এ নিয়ে তদন্ত চলছে। এর আগে বেসরকারি খাতের সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) সাত পরিচালক পদত্যাগ করেন। তার আগে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদেও বড় পরিবর্তন আনা হয়। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৪৮ ব্যাংকের মধ্যে ১৩টির আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ। এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গেছে। সুশাসনের অভাবে বেড়েছে ঋণ অনিয়ম, যা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমনকি দুই বছর ধরে এ ১৩ ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসিয়েও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। দেশে সরকারি-বেসরকারি-বিদেশি মিলে মোট ৫৭টি ব্যাংক রয়েছে। আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়া ১৩টি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ব্যাংকই আটটি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স, ন্যাশনাল, ফারমার্স ও এনআরবি কমার্শিয়ালে পরিস্থিতি কয়েক বছর ধরে খারাপ হচ্ছে। এছাড়া এক যুগ আগে বিলুপ্ত হওয়া ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের দুর্নীতির বোঝা এখনও টেনে চলেছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। বাকি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়।

ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চোখের সামনে ২০১১ সালের পর থেকে বেসিক ব্যাংকের মতো লাভজনক ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। সঠিক দলিলপত্র যাচাই না করে ঋণ দেওয়া এবং আইন না মেনে একক গ্রাহককে সীমার বাইরে ঋণ দেওয়ার উদাহরণ রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে এখন খুবই সাধারণ ঘটনা। এতে বাড়ছে খেলাপি ঋণ, দায় পড়ছে জনগণের ওপর। এ কারণে করের টাকা থেকে সরকার এ ব্যাংকগুলোকে প্রতিবছর বড় অঙ্কের মূলধন জোগান দিচ্ছে। এ অবস্থায় আবারও নতুন করে কয়েকটি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ পুলিশ নতুন একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে বিশেষ ব্যবস্থায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসলামী ব্যাংক এবং অক্টোবরে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের পর এখন ব্যাংক খাতে একধরনের পরিবর্তন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com