শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
পূর্ব-পশ্চিম সেতুবন্ধ রচনায় শেখ হাসিনা
বাহরাম খান
Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 10:34 PM, Update: 07.12.2017 2:39:42 PM

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশকে তুলে ধরার নানান প্রচেষ্টার ফল এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্ব অঙ্গনে নতুন মাত্রায় ভাস্বর হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। 

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে পূর্ব ও পশ্চিমা বিশ্বের যোগসূত্রকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছিল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতা নেওয়ার চার বছরের মাথায় সে ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। বহুমুখী তৎপরতা আরও বাড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্বের দেশ কম্বোডিয়া সফর করে এসেছেন। আগামী ১৩ ডিসেম্বর ‘ওয়ান প্ল্যানেট’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন ফ্রান্সে। 

পূর্ব ও পশ্চিমের দেশুগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়া সফরে বলেছেন, বাংলাদেশ পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, এ কারণে আমরা ঢাকার কাছে নন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মণি গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আজকালের খবরকে বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশেরও যে বিশ^সভায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার যোগ্যতা আছে তা প্রমাণ করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে শুধু বিশে^ নয়, অভ্যন্তরীণভাবেও আমরা অচিন্তনীয় গতিতে এগিয়ে চলছি। তিনি বলেন, শুধু পূর্ব ও পশ্চিমেই নয়, বঙ্গবন্ধু কন্যার লক্ষ্য এই ভূখণ্ডের সব দেশকে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলা। কারণ আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা হচ্ছে, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।

ফ্রান্সে ওয়ান প্ল্যানেট সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফ্রান্স প্রথম থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে কঠোরভাবে অবস্থান নিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার প্রধানদের মধ্যে ইমানুয়েল ম্যাক্রো রোহিঙ্গা নিধনকে সর্বপ্রথম গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ আরও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করেন কূটনীতিকরা।

শুধু নিজেদের প্রচেষ্টাই নয়, ভাগ্যেরও সহায়তা পাচ্ছেন শেখ হাসিনা। এমন মত অনেক পর্যবেক্ষকের। তারা বলছেন, গত সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো আওয়ামী লীগের প্রতি ইতিবাচক ছিল না। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যু সামনে আসার পর ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের বিষয়টি পেছনে ফেলে পশ্চিমা দেশগুলো ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ভূমিকায় পশ্চিমা দেশগুলো এখন অনেক কাছাকাছি। ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের মতো দেশকে বিশে^র পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে চলা কঠিন। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রথম দিকে বেশ বেকায়দায় থাকলেও এখন অনেকটাই উৎরে গেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে কারণে অনেক ইতিবাচক অর্জন হয়েছে। সূত্রটির মতে, শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছেন। এই দুটি দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক নম্বর রফতানি কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান ধরে রেখে এগিয়ে চলছে পোশাক শিল্প। দ্বিতীয় রফতানি গন্তব্য ইউরোপেও ভালো অবস্থান নিয়ে বিশেষ সম্পর্ক উন্নয়ন হয়েছে কানাডার সঙ্গে। এই সবগুলো বিষয়ই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশকে আগের চেয়ে এগিয়ে রাখছে ।

আওয়ামী লীগের ইশতেহারে পূর্ব-পশ্চিম দুই প্রান্তের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক ২০১৪ সালের ইশতেহারের ২৬ নম্বর ধারায় দশটি ভাগে পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২৬.২ ধারা অনুযায়ী, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার কথা বলা হয়। ২৬.৭ ধারায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, কানাডা, রাশিয়া, চীনসহ উন্নত ও নেতৃস্থানীয় অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে থাকা আরও আটটি উপধারায় বিশ^ব্যাপী বাংলাদেশকে সংযোগস্থাপনকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে।

বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকেও চমৎকার সমর্থন পাচ্ছে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের উদ্যোগে আয়োজিত মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ বৈঠকে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের যৌন নিপীড়ন ও সংঘর্ষ বিষয়ে বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা ইতিহাসে উজ্জ্বলভাবে উল্লেখ থাকবে। একই বৈঠকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রাদ আল হুসাইন নিজেও তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন।

আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com