শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
অস্তিত্ব সংকটে ১০০ নদী
আশীষ কুমার সেন
Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 10:08 PM, Update: 07.12.2017 2:40:07 PM

বাংলাদেশে নদী সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা না থাকায় দেশের প্রায় ১০০ নদী বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। আগে সারা বছর নৌচলাচলের উপযোগী ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকলেও বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে তা চার হাজার কিলোমিটারের নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ২০ হাজার কিলোমিটার নৌপথই প্রায় বিলীন। নদী কশিমনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ফুটে উঠেছে এই চিত্র। 

দখল এবং দূষণে দেশের নদ-নদীগুলো মরণদশা হলেও তা রক্ষায় আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নদী রক্ষায় দেশে কোনো আইন তৈরি করা হয়নি। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণের দাবির মুখে সরকার একটি নদী কমিশন গঠন করলেও এখন পর্যন্ত এর কার্যক্রম নেই বললেই চলে। আইন এবং নীতিমালা না থাকায় প্রভাবশালীরা নদীর ওপর দখলদারিত্ব কায়েম করছেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন বুড়িগঙ্গাসহ দেশের নদ-নদী রক্ষায় পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন প্রায় ২০ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। অথচ সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আদালতের আদেশে নদী রক্ষায় পিলার স্থাপন করে নদীর জায়গা ভূমিদস্যুদের দখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নদ-নদীগুলো এমন করুণ অবস্থার শিকার হচ্ছে যে বুড়িগঙ্গাকে এখন আর নদী বলে উল্লেখ করা হয় না। জলজ প্রাণী রক্ষায় বুড়িগঙ্গায় যে পরিমাণ অক্সিজেন থাকা দরকার তা পাওয়া যায় না। ফলে দূর থেকে এখন বুড়িগঙ্গার দুর্গন্ধ নাকে ভেসে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন নদীর পাড় দিয়ে চলাফেরা করাও এখন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন আজকালের খবরকে বলেন, নদী রক্ষায় সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। নেই নদী রক্ষায় কোনো আইন। হাইকোর্টের রায় আছে নদী রক্ষার্থে। কিন্তু সরকার ও প্রভাবশালীরা সেটা মানছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা চাইছে না নদী রক্ষা করতে। সরকারের দুর্বলতার কারণে রাজনৈতিক কর্মীরা নদী রক্ষায় বাধা দিচ্ছেন।

নদী বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ হাসনাত কাইয়ুম বলেন, বাংলাদেশে কয়েকশ’ নীতি আছে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, বাংলাদেশে কোনো নদী নীতিমালা নেই। ফলে নদীকে যে যার মতো করে হত্যা করছে। নদী রক্ষায় সরকারি কাঠামো নিয়ে কথা বলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমিন মুরশিদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদী ও পানির অধিকার রক্ষায় নদী কমিশন করা হয়েছে। তবে দুঃখজনক হলো, নদী কমিশন এখন একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠান। গবেষণা ও কাজের জন্য নেই পর্যাপ্ত বাজেট। ফলে নদীর জন্য কাজ করতে পারছে না নদী কমিশন।

তিনি আরও বলেন, নদী বাঁচাতে গবেষণায় জোর দিতে হবে। বাড়াতে হবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা। নদীর জন্য আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত দুর্বল। নিজেরা যখন নড়বড়ে কাজ করি তখন আন্তর্জাতিকভাবে আমরা দুর্বল হয়ে যাই। নদী বাঁচাতে তাই আন্তর্জাতিক শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতসহ এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটা মনস্তাত্তি¡ক বৈরিতা রয়েছে। এসব আঞ্চলিক রাজনীতির কারণেও নদী নির্যাতিত হচ্ছে। আমি ব্যারাজের বিরুদ্ধে। আমরা যদি নদীকে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে পারি, তাহলে সমস্যার অনেকাংশেই সমাধান হবে।

জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহে নৌচলাচল বহির্ভূত ব্যবহার সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করে। যেখানে বলা হয়, কোনো দেশ এককভাবে বা যৌথভাবে এমন কোনো প্রকল্প প্রণয়ন করতে পারে না, যাতে অন্য কোনো দেশ বা জাতি বা নদীপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ রাজনৈতিক কারণে এই আইনে অনুস্বাক্ষর করেনি। ভারতও নিজের দেশের রাজনীতির বিবেচনায় আন্তর্জাতিক এই আইনে স্বাক্ষর না করায় বাংলাদেশ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিগত কয়েক দশকে শুষ্ক মৌসুমে উজান থেকে আসা প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহে বিঘœ ঘটায় দক্ষিণ এশিয়ার নদীসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া নদীর বুকে বিপুল বাঁধ ও মানুষের অন্তঃসীমান্তের নদী অববাহিকায় বসবাসরতদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও পানিপ্রবাহ সংক্রান্ত চুক্তিসমূহে দেশের জনগণের অংশগ্রহণ না থাকায় তাদের মধ্যে অধিকারের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে এবং তাদের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com