শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
রুবানা, তাবিথ ও মান্নার দিকে চোখ
মোজাম্মেল হক তুহিন
Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 12:33 AM, Update: 06.12.2017 2:08:10 PM

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনকে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চায়। জাতীয় নির্বাচনের আগে এ সিটির নির্বাচন মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই রাজধানীর উত্তরের নগর পিতার জন্য প্রার্থী বাছাইয়ে চমকের পাশাপাশি কৌশলী হতে পারে দলগুলো। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকের নাম শীর্ষে রয়েছে। বিএনপির গত নির্বাচনে প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও এখন আলোচনায় ।

গত সোমবার এ সিটির মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে আইনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সে মোতাবেক আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি ভেতরে ভেতরে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী খোঁজা শুরু করেছে। মেয়র আনিসুল হকের মতো ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দেওয়ার পাশাপাশি ফলাফল নিজেদের ঘরে তুলতে চায় দুই দলই।  ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (উইনেবল) জয়ের যোগ্য প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার কথায়, জিততে পারে এমন যোগ্য প্রার্থীকেই আমরা মনোনয়ন দেব। গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল নির্দলীয় ভোট হলেও এবার দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা। একদিকে ঢাকাকে রাজনৈতিকভাবে নিজেদের দখলে রাখা, অন্যদিকে জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে এ উপ-নির্বাচনে জয়ের বিকল্প ভাবছেন না তারা। সে কারণে এমন কাউকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন যিনি জনপ্রিয়তা ও ভোটব্যাংকের ভিত্তিতে সবার থেকে এগিয়ে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রগুলো বলছে, এ রকম পরিস্থিতিতে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আনিসুল হকের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই প্রার্থীর বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় প্রথমেই উঠে আসছে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকের নাম। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য তার স্ত্রী রুবানা হক মেয়র হিসেবে ভালো প্রার্থী হতে পারেন ঢাকা উত্তর সিটিতে। পাশাপাশি আনিসুল হকের প্রতি নগরবাসীর সহমর্মিতাকে কাজে লাগিয়ে এ সিটিকে নিজেদের দখলেও রাখতে পারবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও অনেক লম্বা। 

আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো বলছে, আনিসুল হকের প্রতিটি সংগ্রাম, সফলতার পেছনে স্ত্রীর উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। রুবানা হক আনিসুল হকের প্রতিটি ব্যবসা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভ‚মিকা রেখেছেন সব সময়। আনিসুল হকের মেয়র নির্বাচন পরিচালনায় স্ত্রী রুবানা হকের পরিকল্পনার গুরুত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি। ৯০ দশকেই নিজেদের পছন্দে এক হয়ে জীবন চলা শুরু করেছিলেন আনিসুল হক এবং রুবানা হক। ২৭ বছরের সংগ্রামী দৃষ্টিকাড়া সম্পর্ক ছিল এই জুটির। নির্বাচনী প্রচারণায় সারাক্ষণ আনিসুল হকের পাশে ছায়ার মতো ছিলেন রুবানা। তার স্মার্ট নির্বাচনী প্রচারণা এবং স্মার্ট নগরীর অনেক পরিকল্পনায় ছিল রুবানা হকের ছোঁয়া। আনিসুল হক বারবার তার এ অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। গত শনিবার আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক কথা বলেছেন খুবই কৌশলে, দেশের জন্য, শহরের জন্য যে কোনো স্যাক্রিফাইস করতে বলবেন, পজিশন থেকে নয়, পজিশন ছাড়াও, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। 

দলের নেতারা বলছেন, তিন দিনের সফর শেষে কম্বোডিয়া থেকে দেশে  ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি শিগগিরই দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।

আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজকালের খবরকে জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে আনিসুল হকের শোকাহত পরিবারকে সান্ত¡না দিতে তার বাসায় গিয়েছেন। নগরবাসী যেভাবে আনিসুল হকের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাতে আনিসুল হকের শূন্যস্থানে তার পরিবারের কাউকে ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। ‘জিততে পারে এমন যোগ্য প্রার্থীকেই আমরা মনোনয়ন দেব’Ñ ওবায়দুল কাদেরের এ কথাও তারই ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে গত সিটি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েও নির্বাচনের দিন মাঠ থেকে সরে যায় বিএনপি। সে জন্য আসন্ন সিটির উপ-নির্বাচনে হিসাব-নিকাশ করেই এগুতে চায় দলটি। ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে বিএনপির কোনো বক্তব্য না থাকলেও ভেতরে ভেতরে চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি। 

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরামের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। শনিবার রাতে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে ঘণ্টাখানেক আলোচনা করেন তিনি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিষয়টিও স্থান পায় এতে। সেখানে বিগত মেয়র নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নাম এবারও দলীয় মনোনয়নের প্রথম পছন্দের তালিকায় উঠে আসে।

 তবে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণে এবার ভিন্ন কৌশলের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে দলটির। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল ও জোটের বাইরে অন্যান্য দলের সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় ঐক্যের একটি প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বলে বিএনপির একটি বিশ^স্ত সূত্র জানিয়েছে।

ওই সূত্রটির আরও দাবি, সেক্ষেত্রে গত সিটি নির্বাচনে ঢাকা উত্তর থেকে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় থাকা নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে প্রার্থী করা হতে পারে। যদিও বিষয়টি বিএনপির মধ্যে এখনও প্রাথমিক আলোচনায় রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গতকাল আজকালের খবরকে বলেন, ‘আপাতত উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা নেই। তবে আমাকে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চলছে, সেটি আমিও শুনেছি। প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব বা সমর্থনের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে যুক্তফ্রন্ট ও নাগরিক ঐক্যের দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর বেশি এই মুহ‚র্তে বলা যাচ্ছে না।’

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আজকালের খবরকে বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে তাড়াহুড়ার কিছুই নেই। আওয়ামী লীগ আগে প্রার্থী করুক, এরপর আমাদের প্রার্থী চ‚ড়ান্ত করা হবে। প্রার্থী নির্ধারণের কৌশল রয়েছে। এই কৌশলের আগে অনেকের নামই আলোচনায় আসবে।’

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে আমাদের দল সমর্থিত প্রার্থী ছিল তাবিথ আউয়াল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। সব কিছু দেখে দলের চেয়ারপারসন প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন।’ নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমানকে বিএনপির সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থীর বিষয়ে দল ও জোট সিদ্ধান্ত দেবে। উত্তর সিটিতে যোগ্য প্রার্থী দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেখানে বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকার একটি বৃহৎ ভোটার রয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া দরকার।’

আজকালের খবর/এসএ




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com