শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
ফেঁসে যাচ্ছেন বাচ্চু
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 12:16 AM, Update: 06.12.2017 12:18:43 AM

শেখ আবদুল হাই বাচ্চু

শেখ আবদুল হাই বাচ্চু

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির দায় অস্বীকার করে নিজের অনেক টাকা আছে জানিয়ে এবার ফেঁসে যাচ্ছেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াতিপূর্ণ ঋণপ্রস্তাব তৈরি ও অর্থ লোপাটের ঘটনা সব অস্বীকার করে তিনি আবারও ব্যাংকটির দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে নিজের টাকার জানান দেওয়ায় দুদক কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকটির চেয়াম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি কোটি টাকার মালিক ছিলেন না। 

দুদকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকালের খবরকে বলেন, বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন আবদুল হাই বাচ্চু। এসব সম্পদের বিবরণি চেয়ে বাচ্চু ও তার পরিবারের সদস্যদের নোটিস পাঠানো হবে। এ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে বাচ্চু বলেছিলেন, আমার অনেক টাকা আছে, আমি বেসিক ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করিনি। বাচ্চুর ভাষায় এ ‘অনেক টাকা’র উৎস কী, সেটাও এখন দুদকের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি ছাড়াও আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যক্তিগত দুর্র্নীতির বিষয় ক্ষতিয়ে দেখছে দুদক। গত সোমবার দুদক কার্যালয়ে তাকে প্রথমবারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সব প্রশ্নের সঠিক জবার দেননি। এ ব্যাপারে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর তদন্ত কর্মকর্তারা আশাবাদী, ফের জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে। 

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, ব্যাংকটির হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এ পর্যন্ত যাদের নাম বেরিয়ে এসেছে এর বাইরেও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

গত সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সম্প্রসারিত ভবনে বেলা পৌনে ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে।

এর আগে গত রবিবার পর্যন্ত দুদক বেসিক ব্যাংকের সাবেক ১০ পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ নভেম্বর দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাচ্চুকে নোটিস দেন। তবে তাকে না পেয়ে তার বাসায় ওই নোটিস পৌঁছে দেন তারা।

গত রবিবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের আরও দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। তারা হলেন সাবেক পর্ষদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও আনিস আহমদ।

দুদক কার্যালয়ে এ দিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি টিম।
জিজ্ঞাসাবাদে এ দুই সদস্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে অনিয়ম করে ঋণ অনুমোদনের তথ্যপ্রমাণ দেখালে তারা ‘চুপ’ হয়ে যান।

সোমবার বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি বেসিক ব্যাংকের করুণ পরিণতির জন্য তার কোনো দায় নেই বলে দাবি করে সূচনা বক্তব্যে তার সময়কালে ব্যাংকের নানা উন্নয়ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরতে চাইলে তদন্ত কর্মকতারা দুর্নীতির বিষয়ে তার বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এ সময়  নার্ভাস হয়ে অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দিতে থাকেন বাচ্চু। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অর্থ আত্মসাতের কোনো ঘটনার সঙ্গে বিন্দুমাত্র জড়িত নন বলে জানান। প্রয়োজনে যে কোনো সময় দুদকের ডাকে আসবেন, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত  চলছে। তদন্ত শেষ হলেই জানা যাবে কারা কারা অপরাধী। তিনি বলেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে।

২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক।

ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়াসহ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিধিবহিভর্‚তভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধান শেষে এ অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১২৯ জনকে আসামি করে ৫৬ ধারায় মামলা করে দুদক। আসামিদের মধ্যে ২৬ ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত।

তবে আসামির তালিকায় বাচ্চু বা ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের কেউ না থাকায় দুদকের ওই তদন্ত নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে প্রশ্ন ওঠে।

চলতি বছর আগস্টে এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদকে আসামি না করায় উষ্মা প্রকাশ করেন।

ব্যক্তি যেই হোক না কেন, এ ধরনের মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ যেন না হয়, সে বিষয়ে দুদককে সতর্ক করেন আদালত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুদক বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

আবদুল হাই বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়।

কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের মুখে পদত্যাগ করেন আবদুল হাই বাচ্চু।

আজকালের খবর/এসএ 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com