শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
খালেদা জিয়ার বক্তব্য ব্যর্থতার প্রলাপ: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী
বাহরাম খান
Published : Tuesday, 14 November, 2017 at 12:45 AM, Update: 14.11.2017 12:51:26 AM

আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী খালেদা জিয়ার সমাবেশে রাখা বক্তব্যের বিষয়ে বলেছেন, একটি দলের নেতা যখন সবদিক দিয়ে ব্যর্থ হয়ে নিজেকে খুঁজে বেড়ায় তখন তার মুখ দিয়ে অবচেতন মনে সেসব ব্যর্থতার প্রলাপ বেরিয়ে আসে। গত রবিবার খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে তাই করেছেন।

গতকাল সোমবার আজকালের খবরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া সর্বৈব একজন ব্যর্থ মানুষ। তিনি মা হিসেবে ব্যর্থ, কারণ সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে পারেননি। দলের প্রধানহিসেবে ব্যর্থ, কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরে তিনি দল পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন সেই মাসুল তো এখন গুনছেন। তিনি সরকার প্রধান থাকার সময় বিরোধী দলের নেতাদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন। এছাড়া নিজের সন্তানকে দিয়ে অন্য একটি সমান্তরাল সরকার পরিচালন করিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তিনি যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এমন একজন ব্যর্থ মানুষ যখন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নেওয়ার কাণ্ডারি জননেত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন তখন সে বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার প্রয়োজন হয় না।

খালিদ মাহমুদের মতে, খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাজনৈতিকভাবে নতুন গুরুত্বপূর্ণ তেমন কিছুই নেই। তবে, কয়েকটি বিষয় আছে। যেমন, আগে তিনি ঘুম থেকে উঠতেন সরকার ফেলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে। এখন দেখা যাচ্ছে তিনি সরকারকে মানছেন। সরকারের দেওয়া শর্ত মেনে জনসভা করছেন। তিনি আগে আদালতকে শ্রদ্ধা করতেন না। এখন দেখা যাচ্ছে আদালতের বারান্দায় গিয়ে অশ্রু বিসর্জন করছেন। আগে তার সবকিছুতেই ছিল ‘মানি না’। এখন দেখা যাচ্ছে তার দাম্ভিকতা কিছুটা দূর হয়েছে। এদিক থেকে আমি কিছুটা ইতিবাচক দেখছি।

এটা সরকারের বড় সাফল্য উল্লেখ করে তিনি বলেন,  খালেদা জিয়া তথা বিএনপির উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী ধারা থেকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ধারায় আনতে পেরেছে বলে সরকারকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বড় একটি সাফল্য বলে মনে করি।

খালিদের মতে, পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান যে ধারায় রাজনীতি শুরু করেছিলেন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতা সেই ধারারই প্রতিফলন। তারা চায় না দেশে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারীর সরকার প্রতিষ্ঠিত থাক। তারা চায় দেশের অস্থিরতা, দরিদ্রতা, অভাব ও অনটন। কারণ তারাই বলেছিল, অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে পড়লে দেশে বিদেশি সাহায্য আসা বন্ধ হয়ে যাবে। খাদ্যের অভাব দরকার আছে। তাদের আদর্শের বাংলাদেশ গড়তে যে অঙ্গীকার দরকার সমাবেশে খালেদা জিয়া সেই বার্তাই দিয়েছেন। জনগণ সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দিনাজপুর-২ আসনে প্রতিনিধিত্বকারী এই নেতা আরও বলেন, খালেদা জিয়া নিজের ক্ষোভ থেকে অনেক কিছু বলেছেন। এগুলো কেন বলেছেন তা আমরা সহজেই বুঝতে পারি। কেন তার পাশে সাকা চৌধুরী, নিজামি ও মুজাহিদরা নেই, কেন যুদ্ধপরাধীরা কোণঠাসা, কেন বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তার পাশে নেই, কেন তার দুর্নীতিবাজ পুত্র পলাতক, কেন তার নিজের বিচার হচ্ছে- এসব কারণেই তিনি ক্ষুব্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন হলে যদি বিএনপি না আসে তাহলে কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম এ সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, যারা নির্বাচনে আসবেন না তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন। দেশে অনেক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে। কারা নির্বাচনে আসবেন কারা আসবেন না- সেটা তাদের বিষয়। নির্বাচন হবেই, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ অংশ নেবেন।  তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যদি ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন প্রতিরোধের চিন্তা করেন তাহলে ভুল করবেন। আশা করি তিনি ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না। গত নির্বাচনে না আসার ক্ষেত্রে অনেক দেশি-বিদেশিদের পরামর্শ ছিল। সেটা যে ভুল ছিল আজ তা প্রমাণ হয়ে গেছে। খালিদ মাহমুদ বলেন, দেশ পরিচালিত হয় সংবিধান অনুযায়ী। সাংবিধানিক ধারাই মূলধারা।  গণতন্ত্রের সঙ্গে থাকতে হলে সাংবিধানিক ধারায় থাকতে হবে। না হয় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারই সহায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের বৈশিষ্ট্য কেমন হতে পারে? জবাবে খালিদ মাহ্মুদ বলেন, অনেকে নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। আমার কথা হচ্ছে সংবিধানে ঠিক যেভাবে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা উল্লেখ রয়েছে ঠিক সেভাবেই সরকার গঠন হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com