শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
জনক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সমাবেশে: খায়রুল কবীর খোকন
মোজাম্মেল হক তুহিন
Published : Tuesday, 14 November, 2017 at 12:43 AM, Update: 14.11.2017 12:49:50 AM

প্রায় দেড় বছর পর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা মাঠের রাজনীতিতে আবারও নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছে- এমন দাবি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকনের। তিনি বলেছেন, সমাবেশ সফল হওয়ার মাধ্যমে সরকারের দুর্নীতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। 

গতকাল সোমবার বিকালে মতিঝিলে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আজকালের খবরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, নির্বাচন প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক বিষয়েও কথা বলেছেন খোকন। 

খায়রুল কবীর খোকন বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনসহ উন্নয়ন অগ্রগতির রাজনীতির সূচনা করেন।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রতি বছর দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে। কিন্তু এবার সিপিসি সম্মেলনের অজুহাতে আমাদের শহীদ রাষ্টপ্রতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে দেওয়া হয়নি। ৮ নভেম্বর সমাবেশের অনুমতি চেয়েও পায়নি বিএনপি। ১২ নভেম্বর অনুমতি দেওয়া হলেও সরকারের ইঙ্গিতে প্রশাসনসহ অন্যরা নানা বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি করেছে। তারপরেও খালেদা জিয়ার বক্তব্য শোনার জন্য লাখ-লাখ মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারপারসনের দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতি, কক্সবাজার সফরে যাওয়া-আসার রাস্তায় মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ও সর্বশেষ রবিবারের সমাবেশে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।’
আগামী দিনে বিএনপির আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে ডাকসুর সাবেক এই জিএস বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐকবদ্ধ করে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি করতে হবে। বিদেশি শক্তিসহ অন্যান্য শক্তির ওপর নির্ভর না করে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি ও জনগণের আস্থা অর্জনে বিশেষ নজর দিতে হবে। এভাবেই আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একসঙ্গে চালাতে হবে। আর বিএনপিকে নির্বাচনের জন্য আলাদা করে তেমন কোনো প্রস্তুতি নিতে হয় না। কেননা দেশে পাঁচবারের মতো রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত একটি দলে জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব সময় প্রস্তুতি থাকে। ’

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবলে কোনো চিড় বা দুর্বলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে জাতীয় বীর উপাধি পাওয়া এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে দুর্বলতা বা নেতাকর্মীদের মনোবলে চিড় ধরেছে এমনটি বলার সুযোগ নেই। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে বিরোধী দলকে স্বাভাবিক রাজনীতি করতে দিচ্ছে না। কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিএনপি তৃণমূলে প্রতিটি নেতাকর্মীর নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এভাবে তারা বিএনপিকে কোণঠাসা করে আবারো একদলীয় নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে। কিন্তু গত কয়েকদিনে বিএনপির কার্যক্রমে নেতাকর্মীদের বিপুল অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের সব ষড়যন্ত্র বুমেরাং হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন স্পষ্টভাষায় বলেছেন- আমরা হানাহানি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করছি না। বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করছে। আমরা বিশ্বাস করি, সেই সংগ্রামে জনগণের বিজয় হবেই।’  

‘বিএনপির উচিত হবে আগামী দিনে সরকারের অপকর্ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা। এসব বিষয় নিয়ে যত বেশি জনগণের কাছে যাওয়া যাবে ততই বিএনপির জনসমর্থন বাড়বে। সেই আলোকেই  বিএনপির কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা’- জানান খোকন। তার মানে কি বিএনপি দাবি আদায়ে আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে ভিন্নপন্থা অবলম্বন করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে খায়রুল কবীর খোকনের অভিমত, দেখুন, আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো সামনে নিয়ে আসাও আন্দোলনের অন্যতম কৌশল। আর আন্দোলন তো অবশ্যই হবে। সমঝোতার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় না হলে বিএনপির সামনে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। তখন এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’

আগামী ছয় সিটি করপোরেশনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দলের ভাবনা জানতে চাইলে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছে। আগামী দিনেও সেটি অব্যাহত থাকবে। তবে বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে ও সেখানকার স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের হাইকমান্ড যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কার্যক্রমে বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি দেখা যায় না কেন- এর জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে বাইরে যাওয়ার জোট কিছুটা গতিহীন ছিল। এখন আশা করছি জোটের কাজে গতি আসবে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও বিকল্প জোট গঠনের জন্য বিএনপি থেকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি আগামী দিনে যুগপৎ কর্মসূচি পালনেরও চিন্তাভাবনা করছে।’ নিজ জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা বিএনপির এই সভাপতি বলেন, ‘আমি উপস্থিত থেকে নিয়মিত দলের প্রতিটি কর্মসূচি পালন করি। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। সাংগঠনিক কমিটিগুলোও কার্যকর রয়েছে। আমার জেলায় ছয়টি উপজেলা কমিটি ও ছয়টি পৌরসভা কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে নয়টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি, বাকি তিনটিতে আহ্বায়ক কমিটি আছে। এছাড়াও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোও কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার জেলায় বিএনপির তথাকথিত সংস্কারবাদী নেতা মান্নান ভূঁইয়া এক সময় দলের সাত বছর মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। এলাকায় তার অনেক অনুসারী আছে। মান্নান ভূঁইয়ার এসব অনুসারীরা দলের ভালো চায় না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের পরামর্শে ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। প্রতি সপ্তাহে দুইদিন এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেই। যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করি।’ ২০০৪ সালে নরসিংদী সদর আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়ী হওয়া এই নেতা আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা চলমান। এই সরকারের মেয়াদে তিনবার কারাবরণ করেছি। কিন্তু দলের নীতি-আদর্শের সঙ্গে কখনো আপস করিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সৈনিক হিসেবে তিনি যেখানে যেভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন জীবন বাজি রেখে সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।’ 

আগামী নির্বাচনে নরসিংদী সদর আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থিতার আগ্রহ প্রকাশ করে খায়রুল কবীর খোকন বলেন, ‘যেকোনো সময়ের চেয়ে নরসিংদীতে দলের সাংগঠনিক অবস্থা ভালো। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণের রায়ে জেলার পাঁচটি আসনেই বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবে।’

আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com