শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
লক্ষ্য অর্জনের পথে জনশক্তি রফতানি
শেখ মাহমুদ এ রিয়াত
Published : Tuesday, 14 November, 2017 at 12:28 AM, Update: 14.11.2017 12:31:45 AM

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে জনশক্তি রফতানি। বেশ কয়েক বছর ধরে জনশক্তি রফতানির ধারা নেতিবাচক পর্যায়ে থাকলেও চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত জনশক্তি রফতানির হার অনেকটাই বেড়েছে। এ লক্ষণ দেশের গোটা অর্থনীতি, বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে অনেকাংশেই চাঙ্গা করবে। 

সূত্র মতে, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের ২০টির বেশি দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে জনশক্তি রফতানি হয়েছে আট লাখ ৩৪ হাজার ৭৭৩ জন। গত বছরের একই সময়ে বিদেশে জনশক্তি রফতানি হয়েছিল ছয় লাখ সাত হাজার ৩৯৫ জন। একক মাস হিসেবে শুধু অক্টোবর মাসেই জনশক্তি রফতানি বেড়েছে ১১১ দশমিক ৮১ শতাংশ। গত বছর মোট সাত লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মী বিদেশ গেছে। চলতি বছর শেষে 

এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছর জনশক্তি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা আছে ১০ লাখ। 

আর এ বছর অক্টোবর পর্যন্ত শুধু সৌদি আরবেই গেছেন চার লাখ ৬২ হাজার ৭১৩, ওমানে ৭৪ হাজার ৯৪৩, কাতারে ৭০ হাজার ৪৪০, মালয়েশিয়ায় ৬৬ হাজার ৩৮৬, কুয়েতে ৪২ হাজার ৩১, সিঙ্গাপুরে ৩৪ হাজার ২৩৩ এবং জর্ডানে ১৭ হাজার ৮১৯ জন। সে হিসাবে জনশক্তি  রফতানিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জনশক্তির এ ধারা অব্যাহত থাকলে বছরজুড়ে ১০ লাখ পর্যন্ত কর্মী বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। জনশক্তি রফতানির হার বৃদ্ধি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএমইটির মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ বছর আমরা ১০ লাখেরও বেশি কর্মী বিদেশে রফতানি করতে সক্ষম হব। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে জনশক্তি রফতানি করতে পারলে ইতিবাচক এ ধারা আরও গতিশীল হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে এক লাখ গাড়িচালকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাড়িচালকসহ বিভিন্ন পেশার বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা প্রেক্ষিতে সরকার দক্ষ গাড়িচালক তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। 

জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্টের (এসইআইপি) আওতায় এক লাখ দক্ষ গাড়িচালক তৈরি করে বিদেশে পাঠানো ব্যবস্থা করা হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের ২২ অক্টোবর থেকে ১০০ জন ড্রাইভিং প্রশিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে প্রথম ব্যাচের ২০ জনকে চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে ১০০ ড্রাইভিং প্রশিক্ষক তৈরি করা হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, বিএমইটি, বিআরটিএ, বিআরটিসি, পরিবহন পুলসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অংশিদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানের ১০০ জন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক মোটর ড্রাইভিং উইথ বেসিক মেইনটেনেন্স এবং ভেহিক্যাল ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করে এক লাখ ড্রাইভারকে বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলবে।

বাংলাদেশ থেকে জাপান, গ্রিস, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, মরিশাস, মিসর, জর্দান, স্পেন, ওমান, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, হংকংসহ আরও কয়েকটি দেশ নারী গৃহকর্মীসহ দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী নেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব দেশ ডাক্তার, নার্স , ইঞ্জিনিয়ার, কৃষি ও নির্মাণ কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী, ব্যাংকিং, মৎস্য আহরণ কর্মী, সেলসম্যান, ট্যুরিজম, গৃহকর্মী, গাড়িচালক, গামেন্টস কর্মীসহ বিভিন্ন পদে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য বিদেশে বাংলাদেশের স্থানীয় দূতাবাসের শ্রম ইউংয়ে যোগাযোগ করেছে।

এদিকে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করতে রিহায়ারিং ও কর্মী প্রেরণ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রিহায়ারিং করার মাধ্যমে বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করা যাবে। সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

অন্যদিকে বিদেশে নারী কর্মী রফতানি  বেড়েছে। ২০১৬ সালে এক লাখ ১৮ হাজার ৮৮ জন নারী শ্রমিক বিদেশে গমন করেন। চলতি বছর অক্টোবর মাস পর্যন্ত এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৩৬ জনে। একক মাস হিসেবে গত বছর অক্টোবরে আট হাজার ৬৯২ জন নারী কর্মী বিদেশে গেলেও চলতি বছর অক্টোবর মাসে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭৭১ জনে। আলোচ্য মাসে নারী কর্মীর গমন বেড়েছে ১০১ দশমিক চার শতাংশ। নারী কর্মী প্রেরণে শীর্ষে সৌদি আরব। দেশটিতে চলতি বছর অক্টোবর মাস পর্যন্ত নারী কর্মী রফতানি হয়েছে ৬৬ হাজার ৭৭৩ জন। 

এ প্রসঙ্গে বায়রার সভাপতি বেনজির আহমেদ আজকালের খবরকে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে বেশকিছু দেশে জনশক্তি রফতানি বন্ধ থাকা কিংবা কমে এলেও এ বছর সৌদি আরবে ছয় লাখেরও বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, বাস্তবে সৌদি আরবই জনশক্তি রফতানির অন্যতম দেশ, যে দেশটিতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি দীর্ঘদিন ধরেই কর্মরত আছেন। যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করছে। যেহেতু রফতানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্পকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হচ্ছে, সে মুহূর্তে প্রবাসী আয়ের ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। কোনো কারণে রফতানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্পের সমৃদ্ধিতে ভাটা পড়লেও যেন প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করা সম্ভব হয়। বাস্তবে দেশের দক্ষ মানবসম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে প্রবাসী আয় আমাদের যে প্রধান খাত হতে পারে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com