শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করছে: জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
Published : Monday, 13 November, 2017 at 1:50 PM

রাখাইনে যৌন সহিংসতা, গণধর্ষণ, নারীদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার ও ধর্ষণ করে হত্যার সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সহিংসতাপূর্ণ পরিবেশে যৌন নির্যাতন বিষয়ক জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন কক্সবাজারসহ বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে রবিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের কাছ থেকে তারা ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের কথা শুনেছেন। জাতিগত ও ধর্মীয় বিবেচনায় পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে নারীদের উপর দলবদ্ধভাবে যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। আর এসব ঘটাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। আর তাদের সহযোগী হচ্ছে- দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং রাখাইন বুদ্ধিস্টদের মিলিশিয়ারা।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেন, একজন নির্যাতিতা নারী জানিয়েছেন যে, তাকে ৪৫ দিন আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করা হয়। প্রমীলা প্যাটেন যৌন নির্যাতনের আরো এক ভয়াবহ চিত্র বর্ণনা করে বললেন, তাকে বলা হয়েছে, কয়েকজনকে যৌন নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং শাস্তির বিধানের দাবি জানিয়েছেন। তিনি এসব বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবকে জানাবেন এবং মার্চে এ বিষয়ে একটি বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশিত হবে।

যৌননির্যাতন বিষয়ক জাতিসংঘ টিম মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে প্রাণে বাঁচতে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এমন অসংখ্য নারীর সঙ্গে কথা বলে। টিমের সদস্যরা মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গত দুই সপ্তাহ কাটিয়েছেন। তারা সেখানে নির্যাতনের ক্ষত বয়ে বেড়ানো নারী ও কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের ওপর চালানো বর্মী নির্যাতনের কাহিনীগুলো রেকর্ড করেছেন।

প্রতিনিধি দলের প্রধান তার টিমের সদস্যদের সঙ্গে ৩ দিন কক্সবাজারে কাটিয়েছেন। তিনি উখিয়ার কুতুপালং এবং নো-ম্যান্স ল্যান্ডে থাকা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেছেন।

প্যাটেন বলেন, বেসামরিক মানুষের ওপর এমন যৌন সহিংসতায় জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

কোনোরকম রাখঢাক না করে তিনি বলেন, এসব যৌন নির্যাতনের ঘটনার মূল হোতা মিয়ানমার আর্মি। তারা নিজেরা নারীদের ধর্ষণ করেছে ধারাবাহিকভাবে। অন্যদেরকেও এটি করতে হুকুম এবং উৎসাহ দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে বর্মী সেনারা ‘তাতমাদাও’ বলে পরিচিত।

জাতিসংঘ দূত বলেন, মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের অনেক সদস্য এবং রাখাইন বুড্ডিস্ট এবং অন্য এথনিক সমপ্রদায়ের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মিলিশিয়ারাও নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা চালিয়েছে। এতে অনেকে মারাও গেছেন।

বর্মী বাহিনী এবং তাদের দোসর মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ, রাখাইন বুড্ডিস্ট ও অন্য এথনিক সমপ্রদায়ের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মিলিশিয়াদের নির্যাতন থেকে কেউই রক্ষা পায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমপ্রদায়কে রাখাইন থেকে সমূলে উচ্ছেদ করার জন্য নারীদের ওপর এমন বর্বরতা চালানো হয়েছে। তাদের টর্চার করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে অনেককে। বাড়িঘর লুট এবং গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বর্বরতা থেকে শিশুরা, যারা আগামী দিনে রোহিঙ্গা সমপ্রদায়ের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিনিধিত্ব করবে তারাও রক্ষা পায়নি।

জাতিসংঘ দূতের কাছে প্রশ্ন ছিল এসব ঘটনার বিচার কিভাবে হবে, দায়ীদের কিভাবে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে, যেখানে মিয়ানমার সব ঘটনাই অস্বীকার করে চলেছে।

জবাবে তিনি বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সম্ভাব্য উপায়গুলোর অন্যতম হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ গ্রহণ। তিনি তার ম্যান্ডেট মতে নিউ ইয়র্কে ফিরে গিয়েই নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে মাঠ পর্যায়ে পাওয়া তথ্যাবলী তুলে ধরে যৌন সহিংসতার বিস্তারিত অবহিত করবেন।

কক্সবাজার সফর এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত ভয়ঙ্কর কাহিনীগুলো তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চেয়ার এবং প্রসিকিউটরদের সঙ্গে শেয়ার করবেন বলেও জানান।–এসএএম

আজকালের খবর/এসএমএম


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com