বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফি নির্ধারণ করবে ইউজিসি
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Thursday, 12 October, 2017 at 8:50 PM

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের তথা বোর্ড অব ট্রাস্টি (বিওটি) সদস্যদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিক্ষা বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, বিওটি, শিক্ষক নিয়োগ, অর্থ সংক্রান্ত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিনিধি ও অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কমিশনে সুপারিশ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ সংশোধন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় সাব কমিটি এসব সুপারিশ উঠে এসেছে। এসব সুপারিশ যুক্ত করে আইনটি সংশোধন হলে মালিকরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার একক আধিপত্য হারাবেন।

সাব-কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, বিওটির এক-তৃতীয়াংশ সদস্য শিক্ষাবিদ থাকতে হবে। ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া বিওটিতে কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। প্রয়োজনে এই বোর্ডে কমিশন সাময়িকভাবে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে পারবে। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের নিজস্ব বা ভাড়া করা ভবনের বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তন রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উপাচার্য পদে নিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত ব্যক্তির শিক্ষাজীবনে কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। উপাচার্য নিয়োগের জন্য তিনজনের প্যানেল করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই বিধান রাখতে হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মালিক পক্ষ নিজেদের খেয়াল খুশিমতো শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এ কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ। তাই শিক্ষক নিয়োগ কমিটিতে ইউজিসি মনোনীত একজন শিক্ষাবিদ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিওটির কোনো সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা পদে না রাখার জন্য বলা হয়েছে।

বিওটির মেয়াদ দুই বছর, বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়ন রোধে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একজন অধ্যাপককে (যথাসম্ভব নারী) এই কমিটির প্রধান করতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সদস্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকার মনোনীত একজন সদস্যের পরিবর্তে ইউজিসি মনোনিত দুই জন সদস্য রাখতে হবে। আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে অর্থ কমিটিতে ভিসি মনোনীত একজন সদস্যের স্থলে কমিশন মনোনীত একজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ফান্ডের অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তরে কমিশনের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষার্থীর ফি নির্ধারণ ও বিভিন্ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের অর্থ খরচের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ফি কাঠামো চূড়ান্ত করতে অবশ্যই ইউজিসির অনুমোদন নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের কারাদÐ ও ১০ লাখ টাকা অর্থ দণ্ডের পরিবর্তে ২০ লাখ টাকা অর্থ দÐের বিধান যুক্ত করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষা সমাপনী তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ব্যানবেইসের ওয়েবসাইটেও প্রকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত সময়ে সনদ নিতে ব্যর্থ হলে ইউজিসির সুপারিশে সেটি বন্ধ ঘোষণা করা যাবে।

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক পক্ষের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, সংসদীয় কমিটি আইন সংশোধনের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলাপ করেনি। তারা একচেটিয়া কাজ করছে। আমরা আলোচনার জন্য চিঠিও দিলেও আমাদের ডাকেনি। তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিলে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। কিন্তু চাপিয়ে দিলে সুফল আসে না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, স্থায়ী কমিটি সাব-কমিটির প্রতিবেদনেটি গ্রহণ করে আলোচনা করেছে। তবে খসড়া চূড়ান্ত করার আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ নানা দুর্বলতা নিয়ে শিক্ষাবিদদের সমালোচনা মুখে আইনটি আধুনিক ও যুযোপযোগী করার জন্য ২০১৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণলায় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি একটি সাব কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল কুদ্দুসকে। কমিটির সদস্য করা হয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, হাছান মাহমুদ, ইউজিসি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানসহ ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুইজন কর্মকর্তাকে। কমিটিকে তিন মাসের সময় দিলেও তারা দুই বছর পরে গত রবিবার বৈঠক করে আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। 

আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com