রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭
ভাইকিংদের শেষকৃত্যের পোশাকে কেন 'আল্লাহ' লেখা?
অনলাইন ডেস্ক
Published : Thursday, 12 October, 2017 at 5:44 PM, Update: 12.10.2017 7:25:52 PM

হলিউডি সিনেমা ও টিভি সিরিজের কল্যাণে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের ভাইকিংস জাতির নাম শুনলেই সমুদ্র বিচরণকারী রোমাঞ্চপ্রিয় এক জাতির ছবি ভেসে উঠে। সেই ভাইকিংসদেরই শেষকৃত্যের পোশাকে আরবি অক্ষরে লেখা ‘আল্লাহু’ ও ‘আলি’ লেখা পাওয়া গেছে।
 
আনুমানিক নবম-দশম শতকের এসব শেষকৃত্যের কাপড়গুলো ১০০ বছর আগে পাওয়া যায়। সেই কাপড়ে রেশম ও রূপা দিয়ে ‘আল্লাহ’ ও ‘আলি’ লেখা। 
 
অবিশ্বাস্য এই বিষয়টি প্রথম চোখে পড়ে সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল প্রত্নতত্ত্ববিদ আনিকা লারসনের চোখে। সুইডেনের উপসালার বিরকা ও গামলা এলাকা থেকে ১৯ ও ২০ শতকে উদ্ধার করা নারী ও পুরুষের শেষকৃত্যের কাপড় পুনরায় পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তিনি এটি আবিষ্কার করেন। তিনি এই বিষয়ে প্রথম আগ্রহ বোধ করেন যখন বুঝতে পারেন এই কাপড়গুলো মধ্য এশিয়া, পারস্য (বর্তমান ইরান) ও চীন থেকে এসেছে। লারসন বলেন, প্রথমে আমার চোখে পড়ে ১.৫ সেমি দৈর্ঘ্যের কিছু জ্যামিতিক চিহ্ন যার সঙ্গে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কোনো কিছুর মিল নেই। তখন আমার মনে হয় যে আমি এটা দেখেছি স্পেনের মুরদের (মুসলমান) বস্ত্রে।
 
লারসন পরবর্তীতে বুঝতে পারেন তিনি প্রাচীন কুফিক আরবি লিপিতে লেখা পড়ছেন। এর মধ্যে ইরানি এক সহকর্মীর সহায়তায় একটি লেখা উদ্ধার করতে পারেন যেখানে লেখা ‘আলি’, ইসলামের চতুর্থ খলিফার নাম। কিন্তু একটি লেখার অর্থ কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না, এরপরে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও কোণ থেকে দেখার পরে বুঝতে পারেন সেখানে ‘আল্লাহ’ লেখা রয়েছে। বিম্বিত চিত্র পদ্ধতি অর্থাৎ উল্টোভাবে সেখানে সেটা লেখা রয়েছে, আয়নায় ধরলে বিষয়টা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। যে লারসন ১০০টি কাপড়ের ১০টিতে আল্লাহ ও আলি লেখা পেয়েছেন, এবং দুটি নাম সবসময় পাশাপাশি ছিল।
 
আর এই আবিষ্কারের ফলে অনেকের ধারণা ভাইকিং কবরে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ হয়তো মুসলিম ছিল। লারসন বলেন, এই কবরে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ মুসলিম ছিলেন এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাবে না। আমরা জানি ভাইকিংদের কবর থেকে তোলা ডিএনএ স্যাম্পল থেকে জানা গেছে ওই ব্যক্তিদের কেউ কেউ পারস্য থেকে সেখানে এসেছিল। তবে এটা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি যে ভাইকিং যুগের দাফনের প্রথা ইসলামের মৃত্যুর পরে বেহেশতে অনন্ত জীবনের ধারণায় প্রভাবিত ছিল। লারসনের টিম এখন উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইম্যুনোলজি, জেনেটিক্স ও প্যাথলজি বিভাগের সঙ্গে মিলে ওই বস্ত্রে মোড়ানো দেহগুলোর ভৌগলিক উৎপত্তিস্থল নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন।
 
ভাইকিংদের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের যোগাযোগের ধারণাটি ঐতিহাসিক বর্ণনা ও উত্তর মেরুতে ইসলামি মুদ্রার আবিষ্কারের ফলে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। দুই বছর আগে সুইডেনের বিরকা থেকে এক নারীর কবর থেকে উদ্ধার হওয়া রূপার একটি আংটির পাথরে দেখা যায় কুফিক আরবিতে লেখা ‘আল্লাহর জন্য’। সপ্তম শতকে ইরাকের কুফাহ শহরে উৎপত্তি হওয়া এই লিপি ওই লিপিগুলোর মধ্যে অন্যতম যেগুলো দিয়ে কোরান শরিফ লেখা হয়েছিল।
 
লারসনের আবিষ্কারটি বেশি আগ্রহ উদ্দীপক এই কারণে যে প্রথমবার স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে হযরত আলি (রা.) এর নাম পাওয়া গেছে। আর এই নামটি আল্লাহর পাশাপাশি বার বার লেখা ছিল শেষকৃত্যের বস্ত্রে। লারসন বলেন, আমি জানি আলিকে শিয়া মুসলিমরা অনেক বেশি সম্মান ও শ্রদ্ধা করে, এবং মনে হয়েছে এর সঙ্গে হয়তো কোনো সংযোগ রয়েছে।
 
হযরত আলি (রা.) ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.) এর স্বামী। হযরত আলি (রা.) সুন্নি ও শিয়া উভয় সম্প্রদায়ের মুসলিমরা সম্মান করলেও শিয়ারা মনে করে তিনি হচ্ছেন নবীজীর প্রকৃত আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার।

লন্ডন ইসলামিক কলেজের ইসলামিক স্টাডিজের প্রোগ্রাম লিডার ও ব্রিটিশ শিয়া ম্যাগাজিন ইসলাম টুডের সম্পাদক আমির ডে মারটিনো বলেন, হযরত আলি (রা.) এর নাম ব্যবহার শিয়া সংযোগের ইঙ্গিতবাহী। তবে ওয়ালি আল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর বন্ধু শব্দবন্ধের অনুপস্থিতি এটা নির্দেশ করে এটা হয়তো মূলধারার শিয়া সংস্কৃতি থেকে নয় বরং কোথাও থেকে ভুল করে অনুকরণ করে লেখা হয়েছে।  যেভাবে লেখা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে হযরত আলিকে আল্লাহর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তাই একটা ক্ষুদ্র সম্ভাবনা আছে যে আদি কিছু সম্প্রদায় যারা এই উগ্র ধারণায় বিশ্বাস করতো তাদের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। তবে সম্ভবত এটা ভুল করেই হয়েছে।
 
এখনো পর্যন্ত কিছু গোঁড়া শিয়া সম্প্রদায় যেমন আলেভিস ও বেকতাশিসের বই ও কবরে আল্লাহ ও আলি (রা.) এর নাম একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়, কিন্তু সেখানে সবসময় হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর নাম উল্লিখিত থাকে। লারসন আশা প্রকাশ করেছেন তিনি হয়তো এসব বস্ত্রে আরো ইসলামিক নিদর্শনের চিহ্ন খুঁজে পাবেন। এমনকি ইসলাম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয় খুঁজে পাওয়ার আশাও ছাড়েননি তিনি। -বিবিসি
 
আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সুমনা গণি ট্রেড সেন্টার, (৪ তলা) প্লট-২, পান্থপথ (সার্ক ফোয়ারা মোড়), ঢাকা।
ফোন : ০২-৫৫০১৩২১৪ ফ্যাক্স : ০২-৫৫০১৩২১৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৮৭৬৮৪৪২৪, সার্কুলেশন : ০১৭৮৯১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
Web : www.ajkalerkhoborbd.com, www.eajkalerkhobor.com