বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭
মধ্য এশিয়ায় মৌলবাদী উত্থান
সৈয়দ তানভীর নাসরীন
Published : Thursday, 12 October, 2017 at 3:58 PM

আল-জির শব্দটার নাম কখনও শুনেছেন ? বা এই নামে কোনো সিনেমা আছে তা জানেন ? সত্যি বলতে কি কাজাকস্তান যাওয়ার আগে আমিও জানতাম না।  আমার পূর্বপুরুষরা মধ্য এশিয়ার বুখারা থেকে একসময় ভারতবর্ষে ধর্ম প্রচারের জন্য এসেছিলেন, এইটুকুই ছিল মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র।  তাই মধ্য এশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ এসেছে, হয়তো পিতৃপুরুষের ভিটে বুখারা বা বাবরের জন্মস্থান সমরকন্দ দেখতে পাব, এটুকুই শরীরের অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থিতে বাড়তি ক্ষরণ এনে দিয়েছিল।  কিন্তু তাই বলে আল -জির ? সেই নামের কোনো সিনেমা দেখা ? ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি।  কিন্ত্ত কাজাকস্তানের সাবেক রাজধানী আলমাটিতে পৌঁছে ভাগ্যিস সিনেমাটা দেখেছিলাম।  না দেখলে আসলে তো ইতিহাসের একটা অংশ অজানাই থেকে যেত।  ‘Alzhir’ আসলে একটা রাশিয়ান শব্দ।

যার মানে করলে দাড়ায় ‘ওয়াইভস অফ ট্রেইটারস অফ মাদারল্যান্ড’।  অর্থাৎ যারা মাতৃভ‚মির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এমন বিশ্বাসঘাতকদের স্ত্রীরা।  এই পর্যন্ত বুঝেও আমি প্রথমে বাকিটা বুঝতে পারিনি।  কী করব ! ৩৪ বছরের বাম শাসনে এই বঙ্গে যারা বড়ো হয়েছে, আরও অনেকের মতো আমিও তো সিপিএমের অফিসে স্তালিনের বিশাল করে বাঁধানো ছবি দেখেই বড় হয়েছি।  কী করে জানব, এই মধ্য এশিয়ায় তিনি মাত্র ১৮ হাজার মহিলাকে ২১ বছর ধরে ‘ক্যাম্পবন্দি ‘ করে রেখেছিলেন শুধু এই সন্দেহে যে তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা হয়তো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।  ১৯৩৮ থেকে ১৯৫৯, একুশ বছর ধরে কাজাকস্তানে এই ক্যাম্পে বা জেলে বন্দি ছিলেন ১৮ হাজার মহিলা।  এদের মধ্যে বড়ো অংশই অবশ্যই কাজাকস্তানের কবি, সাংস্কৃতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী কিংবা আমলাদের স্ত্রী।  কিন্ত্ত ভাববেন না শুধু কাজাকস্তানে যাদেরকে স্তালিন শত্রু ঠাউরেছিলেন, তাদের স্ত্রীদেরই জেলে ভরা হয়েছিল, এমনকী রুশ যুদ্ধের মহানায়ক মার্শাল মিখাইল তুকাচেভেস্কির স্ত্রীকেও এই ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিয়েছিল স্তালিনের রাশিয়া।  কাজাকস্তানের নতুন রাজধানী আস্তানা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে এখন এই আল -জির ক্যাম্পের স্মৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি অসাধারণ মিউজিয়াম।

সেই অবর্ণনীয় পরিস্থিতি, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা এবং আক্ষরিক অর্থেই একটা কুঁড়েঘরের মধ্যে এই মহিলারা কী অবস্থায় থাকতেন, তা গোটা বিশ্বকে জানানোর জন্য কাজাকস্তান সরকার ২০০৭ সালে এই মিউজিয়ামটি খুলে দিয়েছে।  একই সঙ্গে আছে এই ক্যাম্পে বন্দি কোনো মহিলার লেখা চিঠি, তার সন্তানের জন্য তৈরি করা কিছু টুকিটাকি জিনিসের সংগ্রহ।  আমেরিকায় গেলে যেমন হলোকাস্ট মিউজিয়ামটা দেখতেই হয়, জানতে হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঠিক কী ধরনের নির্যাতন হয়েছিল ইহুদিদের ওপর, তেমনই স্তালিনের সোভিয়েত ইউনিয়নকে জানতে গেলে হয়তো কাজাকস্তানের এই আল -জির মিউজিয়ামটা দেখে আসা অত্যন্ত জরুরি।  ‘স্তালিন মুগ্ধতা’-য় বড়ো হওয়া আমি অবশ্য মাতৃভ‚মির প্রতি যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে থাকতে পারেন, তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সোভিয়েত লৌহমানব ঠিক কী ‘ব্যবহার ‘ করেছিলেন, তা জানতেই পারতাম না যদি না ওই একই নামে আনোয়ার রাইবায়েভ -এর তৈরি সিনেমাটা দেখতাম।  মধ্য এশিয়ায় যাব শুনে অ্যাড্রিনালিনে যেটুকু ক্ষরণ হয়েছিল, সিনেমাটা দেখার পর সেটুকু বদলে গিয়েছিল মেরুদণ্ড দিয়ে বয়ে যাওয়া হিমশীতল ঠান্ডা স্রোতে।

রাইবায়েভ আল -জির -এর ক্যাম্পের বন্দি এক মহিলার কন্যার ফিরে দেখার মধ্যে দিয়ে দেখিয়েছেন রুশ বন্দি শিবিরে ঠিক কতটা অত্যাচার সহ্য করতে হত।  রুশ সেনাবাহিনীর অফিসারদের নিত্যদিনের অত্যাচার, ধর্ষণ এবং অবাধ্য হলে গুলি - সবই উঠে এসেছে সেলুলয়েডের পর্দায়।  মধ্য এশিয়ার কথা লিখতে গিয়ে এতক্ষণ আল -জির নিয়ে আলোচনা করলাম কেন ? কারণ আজকের মধ্য এশিয়াকে বুঝতে গেলে তার সোভিয়েত অতীতকে একটু জেনে নেওয়া জরুরি।  রুশ বিপ্লবের পর থেকে যে ‘মহান সোভিয়েত ভাবাদর্শ’-এ এই মধ্য এশিয়ার দেশগুলির দীক্ষা বা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল, তা যে সত্যি ছিল না, আল -জির আসলে সেই বাস্তবতাকে জানান দেয়।  স্তালিনের লালফৌজ আসলে যে বুলেট এবং বেয়নটের ভরসাতেই সোভিয়েত ইউনিয়ন তৈরি করেছিল, সেটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল ৬০ -এর দশকেই।  কিন্তু গর্বাচেভের ‘গ্লাসনস্ত ‘ এবং ‘পেরেস্ত্রোয়িকা ‘র পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ভাঙল, তখন মধ্য এশিয়ার এই দেশগুলি মস্কোকে গুডবাই জানিয়ে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে দেরি করেনি।  আমার পিতৃপুরুষের ভিটে উজবেকস্তানই হোক কিংবা কাজাকস্তান, অথবা কিরগিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান কিংবা আজারবাইজান সবাই একই পথে হেঁটে নিজেদের আলাদা আলাদা রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করে দেয়।  কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত থেকে ‘মুক্তি ‘ পাওয়ার পর মধ্য এশিয়ার এই সব দেশগুলির সামনে সব চেয়ে জরুরি বিষয় ‘গণতন্ত্র ‘ এবং নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়ানো ইসলামের মধ্যে সংঘাত।

কারণ উজবেকস্তান থেকে আজারবাইজান, মধ্য এশিয়ার এই পাঁচটি দেশেই মুসলিমরা সংখ্যাগুরু।  সোভিয়েত আমলে ‘বন্দুক এবং বেয়নেট ‘ দেখিয়েই এইসব দেশের মানুষদের যে ধর্মাচরণ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল, ১৯৯১ এর পর থেকে সেখানেই মসজিদ এবং ধর্ম বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।  মধ্য এশিয়ায় ইসলামের এই প্রচার এবং প্রসারে যোগ্য সংগত করেছে সৌদি আরব এবং নতুন করে খিলাফতের স্বপ্ন দেখা তুরস্ক।  কিরগিজস্তানের রাজধানী বিসকেকেই যেমন সবচেয়ে বড়ো মসজিদটি তৈরি হচ্ছে তুরস্ক থেকে পাঠানো অর্থ সাহায্যে।  মধ্য এশিয়ার এই দেশগুলিতে যেহেতু তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রচুর সম্পদ, তাই তুরস্কের সেদিকেও নজর।  যেমন ধরুন আজারবাইজান, যে দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়নকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার ব্যবহূত তেলের ৮০ শতাংশ জোগান দিয়েছিল, সেই আজারবাইজানের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বিশেষ চুক্তি করে ফেলেছে এরদোগানের তুরস্ক।  তাই বাকুর সঙ্গে ইস্তাম্বুলের এখন শুধু আত্মিক সম্পর্ক নয়, অর্থনৈতিক সম্পর্কও মজবুত।

মধ্য এশিয়ায় যদি ইসলামি মৌলবাদ মাথাচাড়া দেয়, তা হলে কলকাতায় বসে আমাদের চিন্তা করতে হবে কেন ? শুধু এই কারণেই যে আমার পিতৃপুরুষের ভিটে উজবেকিস্তান, কাজাকস্তান বা কিরগিজস্তান আমি দেখে এলাম বলে ? মোটেই না।  আসলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া এই প্রজাতান্ত্রিক দেশগুলিতে এখন যথেষ্ট সংখ্যক ভারতীয় ছাত্র পড়তে যায়।  কিরগিজস্তানের উদাহরণ দিয়েই ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা করি।  গত বছর কিরগিজস্থানে ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিল ৬ হাজার ভারতীয় ছাত্র -ছাত্রী।  এ বছর সেই সংখ্যাটা প্রায় ৮ হাজার ছোঁবে।  ডাক্তারি পড়তে লাগে পাঁচ বছর।  অর্থাৎ যে কোনো সময় কিরগিজস্তানে ৩০ হাজারের কাছাকাছি ভারতীয় ছাত্র -ছাত্রী পড়াশোনা করে।  এবং ভারত থেকে যারা যান, সেই ছাত্র -ছাত্রীদের মধ্যে বড় অংশই মুসলিম।  তাই কিরগিজস্তানে ইসলামি মৌলবাদের উত্থান হলে ভারতীয় ছাত্র -ছাত্রীরা তার ছোঁয়াচ এড়িয়ে থাকতে পারবেন না।  যাদের আমার এই আশঙ্কাকে অমূলক মনে হচ্ছে, তারা ঢাকায় গুলশনে হোলি আর্টিজেন বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনার কথা মনে করে দেখতে পারেন।  হোলি আর্টিজেনের হামলায় যে পাঁচজন জঙ্গি জড়িত ছিল, তারা সবাই ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।  এবং দুই জন মালেশিয়াতে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল।  বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশের এই তরুণ ছাত্রদের সঙ্গে মৌলবাদ এবং জঙ্গিবাদের সম্পর্ক তৈরি হয় মালেশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই।  তাই কিরগিজস্তানেই মুসলিম মৌলবাদ বা জঙ্গিবাদ মাথা তুললে আমরা ভারতীয়রা উদ্বিগ্ন বোধ করবই।  পরিসংখ্যানের খাতিরে বলে রাখা ভালো, প্রতি বছর ডাক্তারি পড়তে কিরগিজস্তানে যারা যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে এই পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র -ছাত্রীরাও আছেন।  মুসলিম মৌলবাদের এই উত্থান নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত কিরগিজস্থান বা কাজাকস্তানও।  কারণ ইতিমধ্যেই কিরগিজস্থান থেকে প্রায় ৫০০ মুসলিম তরুণ সিরিয়া এবং ইরাকে চলে গিয়েছে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে।

কাজাকস্তান থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যাওয়া এই রকম ‘যোদ্ধা ‘র সংখ্যাটা আরও বেশি।  প্রায় হাজারের কাছাকাছি।  এটা অবশ্য নতুন ঘটনা নয়।  কিরগিজস্থান বা কাজাকস্তান থেকে এর আগেও অনেকে আফগানিস্তানে তালিবানদের হয়ে যুদ্ধ করতে এসেছিল।  অতএব, কমিউনিজমের পতনের পর ধর্মের পাশাপাশি মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত এখন চিন্তায় রাখছে বিসকেক কিংবা আস্তানাকে।  এবং সেইজন্যই বোধহয় মধ্য এশিয়ায় মৌলবাদকে মোকাবিলার জন্য কাজাকস্তান, কিরগিজস্থান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকস্তান এবং আজারবাইজান কাছাকাছি এসে একটা মঞ্চ তৈরির চেষ্টা করছে।  এবং সেই মঞ্চে বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও টেনে আনার চেষ্টা করছে।  এ রকমই একটা আন্তর্জাতিক মঞ্চ তৈরির উদ্যোগের সূত্রে আমার মধ্য এশিয়া ঘুরে আসা।  আশার বিষয়, মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর এই উদ্যোগের সঙ্গে যেমন ভারত রয়েছে, তেমনই চীনও হাত বাড়িয়েছে।  কাজাকস্তানের আল -জির এর ঘটনা এই লেখার শুরুতেই বলেছি।  লেখার শেষে কিরগিজস্থানের রাজধানী বিসকেকে যখন মৌলবাদ বিরোধী মঞ্চ তৈরির জন্য সম্মেলন চলছে, তখন সেই সম্মেলনের একটা গল্প দিয়ে শেষ করি।  সম্মেলনে ২২টা দেশ এসেছে।  মধ্য এশিয়ার পাঁচটি মুসলিমপ্রধান দেশ ছাড়াও ভারত, চীন রয়েছে।  দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি মুসলিম যে দেশে, সেই ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিরা হাজির।  আফ্রিকা থেকে মিশর বা তিউনেশিয়ার মন্ত্রী আমলারাও হাজির।

জার্মানি বা নেদারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা আমাদের কাছে জানতে চাইছেন রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে ‘পলিটিক্যাল ইসলাম ‘-এর নতুন চেহারা নিয়ে।  সবখানেই দেখছি দু’জন মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন।  কোন দেশের প্রতিনিধি তারা, কিছুতেই বুঝতে পারছি না।  দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে অবশেষে তাদের ধরেই ফেললাম্, প্রশ্ন করলাম চেহারা দেখে তো মনে হচ্ছে আপনারা ভারতীয় উপমহাদেশেরই, তা হলে কোন দেশের প্রতিনিধি ? যা আন্দাজ করেছিলাম, উত্তর এলো তাই।  ওরা পাকিস্তানের ! ভালো কথা, তা হলে এই রকম একটা আন্তর্জাতিক উদ্যোগে বা সম্মেলনে ইসলামাবাদ নেই কেন ? পাকিস্তান দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সারি যে উত্তরটা দিয়েছিলেন, সেটাও সারাজীবন মনে রাখার মতো।  আলতাফ হুসেন হাসতে হাসতেই মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে বললেন, ‘যে উদ্যোগের শিরোনাম, ‘‘ইসলাম ইন মডার্ন সেকুলার স্টেট’’, সেই উদ্যোগে পাকিস্তান কী করে যোগ দেয় ?’

সৈয়দ তানভীর নাসরীন: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবীবিদ্যার শিক্ষক


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com