বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭
লোকসংগীত আগের চেয়ে আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে: কুদ্দুস বয়াতী
অনলাইন ডেস্ক
Published : Monday, 2 October, 2017 at 8:08 PM

" align=

বাংলাদেশে কী লোকসংগীত হারিয়ে যাচ্ছে, নাকি আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে? লোকসংগীত শিল্পী আব্দুল কুদ্দুস বয়াতী মনে করেন, লোকসংগীত আগের চেয়ে আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে৷ তবে লোকসংগীতের প্রকৃত সুদিনের জন্য কিছু কাজ করা দরকার বলে মনে করেন তিনি৷
আব্দুল কুদ্দুস বয়াতী

আব্দুল কুদ্দুস বয়াতী

প্রশ্ন: বাংলাদেশের লোকসংগীতের কোন ধারাটা এখন শক্তিশালী?
আব্দুল কুদ্দুস বয়াতী: আমি মনে করি, সব রাষ্ট্রেরই লুকানো একটা ঐতিহ্য থাকে, যেটা একেবারেই গ্রাম থেকে উঠে আসা সংগীত৷ এখনো যেসব জনপ্রিয় গান দেখবেন, সেসব গান আগের দিনকার গান, গ্রাম থেকে উঠে আসা গান৷ আমি একটা গান গাই, এমন, ‘‘আগের কথা ভাবতে গেলে কিছুই খুঁজে পাই না আর, কই গেল রসে ভরা দিনগুলি আমার৷'' আমি মনে করি আমাদের গ্রামের শিল্পীদের যে সম্মানটুকু পাওয়া উচিত, সেটা পাচ্ছে না৷

প্রশ্ন: লোকসংগীতের মূল উৎস তো গ্রাম৷এখন তো গ্রাম অনেকটা শহরের মতো৷ তাহলে এখন গানের উৎসটা মূলত কোথা থেকে আসে?
কুদ্দুস বয়াতী: গ্রাম তো কখনও শহর হতে পারে না৷ গ্রাম গ্রামই থাকে৷ আমার বাড়ি ভাটি এলাকায়, হাওড় অঞ্চলে৷ সেখানে বহু গ্রাম আছে৷ হয়ত বিদ্যুৎ পৌঁছেছে৷ কিন্তু শহর হয়ে যায়নি৷ আমি তো ২৫/২৬ বছর আগেই গান গেয়েছি, ‘‘এই দিন তো দিন নয়, আরো দিন আছে, এই দিনেরে নিবা তুমরা সেই দিনেরও কাছে৷'' হুমায়ুন আহমেদের লেখা, আমার সুর করা, গাওয়া এবং অভিনয় করা এই গানটা শুনলে বোঝা যায় গ্রামে যদি শহরের ছোঁয়া লাগে, তাহলে আমার লোকসংগীতটাও শহরের ছোঁয়ায় ডিজিটাল হয়ে উঠবে৷ এবং হচ্ছেও৷

প্রশ্ন: শহরে কি লোকসংগীত তৈরি হচ্ছে?
কুদ্দুস বয়াতী: শহরে ওভাবে তৈরি হচ্ছে না, আবার হচ্ছেও৷ কিভাবে? শহরের অনেক নাট্যকার, সাহিত্যিক আছে, তারা শহরে বসে কাজ করছেন৷ কিন্তু গ্রামের লোকসংগীতকে ওভাবে তুলে ধরছেন না নাটক গান বা লেখার মাধ্যমে৷ আমার গ্রামটা যেভাবে আমার অন্তরে ছবি আঁকা, সেভাবে তারাও গ্রামের চিত্রটা তুলে ধরছে না৷

প্রশ্ন: লোকসংগীত কি নতুন করে তৈরি হচ্ছে, নাকি আগের সেই গানগুলোই বারবার বাজছে বা আমরা গাইছি?
কুদ্দুস বয়াতী: জীবন মানেই যন্ত্রণা৷ একটা লোক আঘাত পাইতে পাইতে কিন্তু গানে আসে৷ তাহলে গান তৈরি হবে না কেন? আঘাত তো প্রায় লোকই পাচ্ছে, তারা গান লিখছে৷ আগেরগুলোও থাকবে, নতুন যেগুলো আসছে, সেগুলোও মানুষ মনে রাখবে৷

প্রশ্ন: বর্তমানের পশ্চিমা দেশের সংস্কৃতির যুগে লোকসংগীত কি তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম?
কুদ্দুস বয়াতী: এটা দেখার ভুল৷ শাস্ত্রে একটা কথা বলে, ‘‘মামু এই গ্রামে ব্যাডা ক্যাডা? আমরা৷ চোর ক্যাডা? সেডাও- আমরা৷'' আমাদের সংস্কৃতি যদি আমরা না বাঁচিয়ে রাখি, তাহলে অন্য কেউ বাঁচিয়ে রাখতে পারবে না৷ আমি মনে করি, প্রত্যেকটি মানুষের এটা দায়িত্ব৷ আমি এটাও মনে করি, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পর একটা লোকসংগীত গাওয়া উচিত৷ অন্যান্য দেশে আমি দেখেছি, জাতীয় সংগীতের পর লোকসংগীত গায়৷ আমি ইংরেজি বুঝি না, বাংলাও ঠিকমতো বলতে পারি না, তবে এই চেতনা আমার আছে, লোকসংগীত মানুষের মুখে মুখে থাকতে হবে৷ আমি যদি সারা রাত গান গাই তবুও আমার বই দেখতে হবে না৷

প্রশ্ন: আমাদের লোকসংগীত শিল্পী বাড়ছে, নাকি কমছে?
কুদ্দুস বয়াতী: আসলে এটা কমবে, আবার বাড়বে৷ যেমন ধরেন, যে শিল্পী লোকসংগীত গায়, তার দুই চার পাঁচশ' শিষ্যও আছে৷ শিষ্যদের আবার শিষ্য তৈরি হচ্ছে৷ ফলে শিল্পী কমার কথা না৷ এটা আধুনিকতার ছোঁয়া পাইতে পারে৷ এসব কারণে আমি মনে করি, কমে নাই৷

প্রশ্ন: শিল্পীদের মর্যাদা কি আগের মতো আছে?
কুদ্দুস বয়াতী: অবশ্যই আছে৷ বরং আগের থেকে অনেক উন্নত৷ কিন্তু অর্থের দিক দিয়ে নিঃস্ব৷

প্রশ্ন: এখন লোকসংগীত বাঁচিয়ে রাখতে মূল ভূমিকা কাদের?
কুদ্দুস বয়াতী: এই ভুমিকা অনেক অনেক মানুষের৷ যেমন ধরেন, নাট্যকাররা গ্রামের জিনিসটা তুলে ধরে এটাকে বাঁচিয়ে রাখছে৷ অনেকে লেখার মাধ্যমে এটাকে বাঁচিয়ে রাখছে৷ আসলে অনেক ধারায় অনেক লোক আছেন৷

প্রশ্ন: সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কি এই কাজে কোনো ভূমিকা রাখছে?
কুদ্দুস বয়াতী: আমি মনে করি, রাখছে৷ কিন্তু আরেকটু সদয় হয়ে থাকলে আরো ভালো হতো৷ সরকার এই ঐতিহ্য ধরে রাখায় ভুমিকা রাখছে৷ যে শিল্পীরা ভাত পাচ্ছে না, তাদের ভাতা দিচ্ছে৷ এটা খুবই ভালো কাজ হচ্ছে৷ আমি মনে করি, শিল্পীরা ভালো আছে৷ 

প্রশ্ন: বর্তমানে লোকসংগীত শিল্পীদের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব বেশি ভালো নয়৷কারণ কী?
কুদ্দুস বয়াতী: আসলে আউল বাউল যে শিল্পীরা, তারা কিন্তু একটু পাগল টাইপের থাকে৷ তারা গানে মুগ্ধ হয়ে থাকে৷ গানেই তার জীবন, গানেই তার মরণ৷ ধরেন, একজন শিল্পী একটা অনুষ্ঠানে গেল ৫০ হাজার টাকা পাইল, এটা তার সঙ্গে থাকা ৮/১০ জনের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার পর নিজের কিছু থাকল৷ এরপর ধরেন, ৭ দিন বা ১৫ দিন তার কোনো প্রোগ্রাম নেই৷ এখন এই টাকা দিয়ে কয়দিন চলে? তখন সে একটা কষ্টে পড়ে যায়৷

প্রশ্ন: এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে আপনি মনে করেন?
কুদ্দুস বয়াতী: আমার কথাই বলি৷ আমি কুদ্দুস বয়াতী এক টাকা হাতে নিয়ে এই গান শুরু করেছি৷ গানই আমার পেশা, গানই আমার সব৷ আমি কিন্তু কুদ্দুইচ্চা থেকে কুদ্দুস বয়াতী হয়েছি, সেটা অনেক পরিশ্রম করে৷ প্রতিটি জেলায় যদি একটা করে লোকজ ইনস্টিটিউট করা যায়, সেখানে ওই জেলার শিল্পীদের তালিকা থাকবে, যারা মারা গেছে তার গানগুলো সেখানে সংগৃহীত হবে৷ এখন তো সবকিছু ডিজিটাল হয়ে গেছে, এগুলো সংগ্রহে রাখা তো আরো সহজ৷ আমি নিজেও একটা লোকজ ফাউন্ডেশন করেছি৷ সেখানে লোকজ ইনস্টিটিউট বা জাদুঘর থাকবে৷ নিজের অর্থ এবং সবার সহযোগিতা নিয়ে এটা আমি শেষ করে যেতে চাই৷- ডিডব্লিউ

আজকালের থবর/এসএ

আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com