বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
বন্যার অবনতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Saturday, 12 August, 2017 at 11:44 PM, Update: 12.08.2017 11:55:48 PM

অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, বৃষ্টি এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এছাড়া খুলনা ও বরিশাল ছাড়া অন্য ছয় বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতায় আবারও দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। 

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে নয় মিলিমিটার। শনিবার শেষ রাত শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কখনও মুষলধারে আবার কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। যাত্রাবাড়ীর দনিয়া, মাতুয়াইল, শেখদী এলাকার বেশিরভাগ রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে মালিবাগ, খিলগাঁও, রামপুরা, মলিবাগ, রাজারবাগ, গুলিস্তানসহ আরও বিভিন্ন এলাকায়। ডেমরা এলাকার বেশিরভাগ রাস্তাই এখন পানির নিচে। এবার বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বড় ধরনের জলাবদ্ধতার কবলে 

পড়ে রাজধানীবাসী। বৃষ্টির কারণে কোথাও যানজট থাকলেও কোথাও কোথাও দেখা গেছে যানবাহন সংকট। এতে অফিসে যেতে অনেকেই দুর্ভোগে পড়েন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকেও রাজধানীর রায়েরবাগ, কাজলা বাসস্ট্যান্ডে শত শত মানুষকে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। মেরাদিয়া থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত প্রচÐ যানজটের খবর জানান ওই পথ দিয়ে গুলশানের দিকে যাওয়া যাত্রী শেখ কাওসার হোসেন। গতকাল শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রংপুর বিভাগের তেঁতুলিয়ায়, সেখানে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে টাঙ্গাইলে ১০৯, ময়মনসিংহে ১০০, নেত্রকোনায় ১২৩, সীতাকুÐে ১৭৬, রাঙামাটিতে ২৫৯, সিলেটে ১১৭, রাজশাহী বিভাগের বদলগাছীতে ১৩৪, রংপুরে ১৫৬, দিনাজপুরে ১৫৪, ডিমলায় ২১৪, সৈয়দপুরে ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিকে ভারি এবং ৮৯ মিলিমিটার বা এর বেশি বৃষ্টি হলে তাকে অতি ভারি বৃষ্টি বলে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সর্বশেষ সকাল ৯টায় গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য দিয়ে বলছে, ৯০টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি স্টেশনের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে ৮১টির। হ্রাস পেয়েছে ছয়টি। বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ১৭টি কেন্দ্রে। ১০০ মিলিমিটারের উপরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে ১৬টি স্টেশনে। আর ৫০ মিলিমিটারের উপরে হয়েছে ৩৮টি কেন্দ্রে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টা থেকে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ১৫ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। 
কুড়িগ্রাম: গতকাল শনিবার টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রæত বাড়ছে। ইতিমধ্যে চর, দ্বীপচর ও নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ। কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 
সুনামগঞ্জ: প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদ-নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে। নতুন করে জেলার দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ সদর, দিরাই, ধরমপাশা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। সড়ক প্লাবিত হওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন ধরে প্রবল বর্ষণের পাশাপাশি উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল নেমে আসছে। উপজেলা সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের হাওরা নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আখাউড়া ইউনিয়নের মনিয়ন্দ, মোগড়া ও আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩০ গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে যায়। 

লালমনিরহাট: টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার পাঁচটি উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তা, ধরলা, রতনাই, শনিয়াজানসহ প্রায় সব নদ-নদীর পানি বেড়ে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ইটাপোতা গ্রামের বুমকা এলাকায় গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ধরলা নদীর ওয়াপদা প্রতিরক্ষা বাঁধের ২০ ফুট এলাকা ভেঙে গেছে।

দিনাজপুর: দিনাজপুরে দুই দিনের টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় দিনমজুরদের কষ্ট বেড়েছে। হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২১২ মিলি মিটার। প্রধান দুটি নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। 

রংপুর: গত তিনদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন চরে অবস্থিত আশ্রয়ন ও গুচ্ছগ্রাম কেন্দ্র, চরাঞ্চল ও নি¤œাঞ্চলের ২৫ হাজার পরিবার। এদিকে গতকাল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মসিউর রহমান রাঙ্গা পানিবন্দি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণের ব্যবস্থার জন্য আশ্বাস দেন।

নীলফামারী: টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে অবিরাম বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তাপারের নি¤œাঞ্চল ও চরের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে পানির চাপে তিস্তা সেচ প্রকল্পের দিনাজপুর সেচ নালার নীলফামারীর জলঢাকায় দুটি স্থানে ১০০ ফুট ভেঙে গেছে। 

পঞ্চগড়: ভারিবর্ষণ ও উজানের পানিতে পঞ্চগড় শহরসহ পাঁচ উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। শহরের করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, ভেরসাসহ জেলার সব কটি নদীর পানি বেড়েছে। জেলা শহরসহ বেশকিছু এলাকার মানুষ বিভিন্ন স্কুল কলেজে আশ্রয় নিয়েছে। 

নেত্রকোনা: অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দূর্গাপুর পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার টানা বর্ষণে ব্যবসা বাণিজ্যসহ জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। শুক্রবার সকাল থেকে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। দিনব্যাপী মেঘলা আকাশের ঝলকানির বিকট শব্দে আতঙ্কিত মানুষের এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।

শেরপুর: গত দুই দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ভোগাই নদীর অন্তত ১৪টি স্থানে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়াও নদীর তীর গড়িয়ে প্লাবিত হচ্ছে চেল্লাখালী নদীর পানিও। ফলে পৌরসভাসহ অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাম আকস্মিক বন্যায় কবলিত হয়ে পড়েছে।

হিলি: তিন দিনের টানা বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে প্লাবিত হয়েছে হিলি স্থলবন্দরসহ এর আশপাশের এলাকা। জলবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, টিএন্ডটি অফিসসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন অফিস ও স্থাপনা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পৌর এলাকার ধরন্দা-ফকিরপাড়া, চন্ডিপুর, কালিগঞ্জ, চুড়িপট্টি, মুন্সিপাড়া, পালপাড়াসহ পৌর এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সুমনা গণি ট্রেড সেন্টার, (৪ তলা) প্লট-২, পান্থপথ (সার্ক ফোয়ারা মোড়), ঢাকা।
ফোন : ০২-৫৫০১৩২১৪ ফ্যাক্স : ০২-৫৫০১৩২১৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৮৭৬৮৪৪২৪, সার্কুলেশন : ০১৭৮৯১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
Web : www.ajkalerkhoborbd.com, www.eajkalerkhobor.com