বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
গো রক্ষার হ্যাপা টের পাচ্ছে ভারত
নিউজ ডেস্ক
Published : Saturday, 12 August, 2017 at 7:39 PM, Update: 12.08.2017 7:46:31 PM

ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারে আসার পর গরু রক্ষার যে তৎপরতা শুরু হয়েছে, তার বিপদ নিয়ে এবার সতর্কবার্তা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সমীক্ষা প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, গবাদি পশু জবাইয়ে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা টানা হলে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরাই। এত দিন কৃষক সংগঠনগুলো এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছিল, তাতে সায় দিচ্ছিলেন অর্থনীতিবিদরাও।

নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গো-মাংস নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ শুরু হয়। গরু জবাইকে কেন্দ্র করে একের পর এক পিটিয়ে খুনের খবর আসে গণমাধ্যমে। আপত্তি উপেক্ষা করেই হাট-বাজারে গবাদি পশুই জবাইয়ের উদ্দেশ্যে কেনাবেচা করা যাবে না বলে নিয়ম জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার।

আর্থিক সমীক্ষা প্রতিবেদনের কোথাও সরাসরি গবাদি পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বা গোরক্ষক বাহিনীর উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু বলা হয়েছে, কর্মক্ষমতা হারানোর পরে গবাদি পশুর দামের উপরেও পশুপালকদের রুটিরুজি নির্ভর করে। এমনিতেই কৃষি থেকে আয় পড়তির দিকে। কোনো ‘সামাজিক নীতি’র জেরে পশুর মাংস বেচে আয় বন্ধ হলে এবং বুড়িয়ে যাওয়া গবাদি পশুকে বসিয়ে খাওয়াতে হলে চাষি-পশুপালকদের আয় আরও কমবে। এই সব ‘সামাজিক নীতি’র ফলে সমাজে ক্ষতিই হবে।

আর্থিক সমীক্ষা তৈরি করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি তা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেন।

মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এই ‘সামাজিক নীতি’ কি গবাদি পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা? তার জবাব ছিল, “এই সব প্রশ্ন করে আমাকে বিপদে ফেলবেন না।”

বাম দল সিপিএমের কৃষক সভার নেতা হান্নান মোল্লা বিজেপির নীতির সমালোচনা করে বলেন, “কৃষকদের আয়ের ৭০ ভাগ আসে জমি থেকে। বাকিটা পশুপালন থেকে। চাষের ক্ষতি সামলাতে না পেরে কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। দুধ দেওয়া বা মাঠে হাল টানা বন্ধ করার গরু-মোষ পুষতে হলে তার খাইখরচ কোথা থেকে আসবে?”

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক বিকাশ রাওয়াল এই প্রসঙ্গে বলেন, “বছরে ৩ কোটি ৭০ লাখ পুরুষ গরু-মোষ জন্ম হয়। জবাই বন্ধ হলে এদের খাবারের পেছনে বছরে ৫.৪ লক্ষ কোটি টাকা খরচ। এই আর্থিক দায়ভার কি সরকার বইতে রাজি?”

এই পরিস্থিতিতেও উগ্রবাদীরা থেমে নেই। মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার কেউ গরু গোশত রেখেছে বলে সন্দেহ হলে তা খোঁজ করে বের করার জন্য ঘরে ঘরে তল্লাশির অনুমতি দেয়ার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। রাজ্যটিতে ১৯৭৬ সাল থেকে গরু জবাই নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু ১৯৯৫ সালে আইনটিতে সংশোধনী এনে রাজ্যের বাইরে থেকে কেউ গোশত এনেছে বলে সন্দেহ হলে তাকে পুলিশের গ্রেফতার ও তার ঘরে তল্লাশি করার সংশোধিত আইনটি বোম্বে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার জন্য বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিজেপির রাজ্য সরকার।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে যাতে আদালত  পুলিশ অফিসারকে মহারাষ্ট্রের বাইরে জবাই করা গরুর গোশত নিয়ে রেখেছে মর্মে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক এবং তার অবস্থানে তল্লাশি চালাতে পারে। গত চার দশক ধরে মহারাষ্ট্রে গরু জবাই নিষিদ্ধ থাকায় এখানে কোনো গরু জবাই হয় না।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন স্থানে গো রক্ষা দলের আক্রমণে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে গরুর দুগ্ধ ব্যবসা ও এর পরিবহণ ক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় সরকার জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গরু বেচা কেনা নিষিদ্ধ করার জন্য এক প্রজ্ঞাপন জারি করলে এই বিতর্ক চরমে উঠে। বিভিন্ন রাজ্য সরকার তা মেনে নিতে অস্বীকার করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হলে এর কারযকারিতা স্থগিত হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের এই নিশেধাজ্ঞা সারা দেশের জন্য বলবৎ করে। এটি এখন ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকারের একটি বিষয় হিসাবে অলোচিত হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে মোম্বে হাইকোর্ট এর আপিল সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করলে গো রক্ষা দলের দাপট আরো বেড়ে যাবে। সংখ্যালঘুদের জীবন নানাভাবে বিপন্ন হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রপ্তানিকারক। এ খাত থেকে এক লাখ কোটি রুপির রাজস্ব আদায় হবার সম্ভাবনা রয়েছে। গরু ব্যবসার ওপর নিষেধাজ্ঞায় বেশিরভাগ পশুই ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন চাষীদের হাতে থাকে বলে তারাই এর বড় শিকারে পরিণত হয়েছে। এই আইনটি ভারতীয় কৃষক এবং কৃষিখাতের ওপর বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে। ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম দলিত এবং বিভিন্ন উপজাতীয় জনগোষ্ঠির খাদ্য তালিকায় রয়েছে গরু আর হিন্দুরা গরুকে দেবতা মনে করে এটাকে গো মাতা বলে থাকে।

আজকালের খবর/এসএ



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সুমনা গণি ট্রেড সেন্টার, (৪ তলা) প্লট-২, পান্থপথ (সার্ক ফোয়ারা মোড়), ঢাকা।
ফোন : ০২-৫৫০১৩২১৪ ফ্যাক্স : ০২-৫৫০১৩২১৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৮৭৬৮৪৪২৪, সার্কুলেশন : ০১৭৮৯১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
Web : www.ajkalerkhoborbd.com, www.eajkalerkhobor.com