শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭
অবৈধভাবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কোটি টাকা বিতরণ
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Sunday, 18 June, 2017 at 11:08 PM

মোহা. রফিকুল ইসলাম। চুয়াডাঙ্গা নতিপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি ১৯৮৯ সালের মে মাসে এমপিওভুক্ত হন। তাকে ১৯৮০ সালের জানুয়ারি থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের তিন লাখ ১৮ হাজার ৪৭৩ টাকা  দেওয়া হয়েছে। রংপুরের বৈরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদার আলীর এমপিওভুক্ত হন  ১৯৮৯ সালের মার্চে। তাকেও ১৯৮০ সাল থেকে অবসর সুবিধা বোর্ডের চার লাখ ২০ হাজার ৭২৮ টাকা দেওয়া হয়েছে। শুধু এই দুইজন শিক্ষককেই প্রাপ্যতার চেয়ে বাড়তি টাকা দেওয়া হয়নি, ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে এভাবে অসংখ্য শিক্ষক-কর্মচারীকে প্রায় কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বোর্ডের এক কর্মকর্তার চাকরির বৈধতার তদন্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি এসব প্রমাণ পেয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক এলিয়াছ হোসেন জানান, বোর্ডের সহকারী পরিচালক (অর্থ) মো. আবু হানিফার চাকরির বৈধতার তদন্ত করতে গিয়ে অসংখ্য জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্যতার বেশি অর্থ  দেওয়া হয়েছে। আবার ঘুষ না দিলে প্রাপ্যতার চেয়ে কম অর্থ ছাড় করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা দেখে গেছে, শেরপুরের সূর্যদী এ আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আছাদুজ্জামানকে চার লাখ ২০ হাজার ৭২৮ টাকা অবসর সুবিধা ভাতা দেওয়া হয়েছে। তার চাকরির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানের শেষ এমপিও এবং শেষ প্রতিষ্ঠানের প্রথম এমপিওর কাগজপত্র ছাড়াই ১৯৮০ সাল থেকে তার প্রাপ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের ভাটপিয়ারী জ.রা.সা. উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান তিন লাখ ১৮ হাজার ৪৭৩ টাকা নিয়েছেন। ভাতা প্রাপ্তির আবেদনে তার চাকরির প্রথম এমপিও ঠিক নেই। একই জেলার খাসরাজ বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মোসলিম উদ্দিন মৌলভীর প্রথম এমপিওর কাজগপত্র ছাড়াই দুই লাখ ৩৯ হাজার  ৯৩৩ টাকা দেওয়া হয়েছে। অনেক শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির তারিখ ১৯৮০ সালের পরে। তাদের ১৯৮০ সালের জানুয়ারি থেকে অবসর সুবিধার অর্থ দেওয়া হয়েছে। একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য একাধিক এমপিওভুক্তির ইনডেক্স থাকলেও কোনো যাচাই-বাছাই না করেই অবসর ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এভাবে অর্ধশত শিক্ষক-কর্মচারীর ৯২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৭ টাকা বিতরণে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্ত কমিটি। লক্ষ্মীপুরের টুমচর আসাদ একাডেমির শিক্ষক কমল কৃষ্ণ মজুমদার ১৯৭৪ সালে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০০৬ সালে অবসরে যান। অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় তাকে ১৯৯৩ সাল থেকে অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ দেওয়া হয়েছে।   

রাজধানীর তেজগাঁও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুল হককে অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব করা হয়েছিল। তিনি কলেজের কাজেই বেশি সময় ব্যস্ত থাকতেন। তার অবর্তমানে বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন আবু হানিফা। হাজার হাজার শিক্ষক কর্মচারী চাকরি থেকে অবসর নিয়ে নিজের জমানো টাকা তুলতে এসে আবু হানিফের হয়রানির শিকার হতেন। তার চাকরি বৈধ্যতার প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করা হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও বোর্ডের সদস্য জাকির হোসেন ভূঞাকে আহ্বায়ক করা হয়। কমিটির সদস্য করা হয় মাউশির পরিচালক এলিয়াছ হোসেন ও বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনকে। 

আবু হানিফের চাকরির বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটি ও নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই ২০০৫ সালে অবসর সুবিধা বোর্ডের মূল্যায়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয় মো. আবু হানিফাকে। ২০০৯ সালে তার চাকরি স্থায়ী করা হয়। ২০১২ সালে পদোন্নতি দিয়ে বোর্ডের সহকারী পরিচালক করা হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রেষণে ইসলামী আরবি বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার করা হয়েছে। বর্তমানে তিন সেখানে কর্মরত। ওই পদে স্থায়ী নিয়োগ না দিতে বিশ্বিবদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বোর্ডের পক্ষ্য থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।  বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী আজকালের খবরকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে দুর্নীতি হয়েছে। ডেকে এনে এত বড় প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির অফিসার পদে নিয়োগ হতে পারে না, তাই তদন্ত হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন আবু হানিফার বিরুদ্ধে গেছে। এখন বোর্ড সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আজকালের খবর/রাসিব


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : আজিজ ভবন (৫ম তলা), ৯৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ফোন : +৮৮-০২-৪৭১১৯৫০৬-৮। বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭৮৭-৬৮৪৪২৪, ০১৭৯৫৫৫৬৬১৪, সার্কুলেশন : +৮৮০১৭৮৯-১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com