শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭
রাঙামাটি যাওয়ার পথে মির্জা ফখরুলের ওপর হামলা
চট্টগ্রাম ব্যুরো
Published : Sunday, 18 June, 2017 at 10:11 PM

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ চারজনের প্রতিনিধি দল ঢাকা থেকে রাঙামাটি যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয়েছেন। ফলে রাঙামাটি যেতে না পেরে চট্টগ্রাম নগরীতে ফিরে দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
দলের চেয়ারপারসন খালেদার নির্দেশে পাহাড় ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের ওই প্রতিনিধি দল ঢাকা থেকে রাঙামাটি যাওয়ার পথে রবিবার সকাল ১১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া ইছাখালি এলাকায় পৌঁছলে ৩০/৩৫ জন সশস্ত্র যুবক অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় তারা রড, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মির্জা ফখরুলকে বহনকারী গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। হামলার ঘটনায় ফখরুলদের বহনকারী তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রক্তাক্ত জখম হন।

স্থানীয়রা জানান হামলার পর আতঙ্কিত অবস্থায় স্থানীয় পোমরা মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া অন্য নেতারা ছুটে আশ্রয় নেন পাশের একটি এতিমখানায়। হামলার পর স্থানীয় মসজিদে আশ্রয় নেওয়া মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা অন্যায় অবিচার। এ দেশে কেউ নিরাপদ নয়। আমরা পাহাড়ধসে মানুষকে দেখতে ও ত্রাণ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাধা দেওয়া হলো। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ পরে হামলা শিকার প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম ফিরে এসে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।  সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ভ‚মিধসে নিহতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের চেয়ারপারসন খালেদার নির্দেশে চারজনের প্রতিনিধি দল ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসি। পথে জানতে পারলাম রাঙামাটি সড়কে ভাঙন আরও বেড়েছে। তাই কাপ্তাই হয়ে নদীপথে রাঙামাটি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। খসরু, নুরুল আলম, ডা. ফাওয়াজ এবং চট্টগ্রামের নেতারাসহ বিমানবন্দর থেকে রাঙামাটির উদেশ্যে রওয়ানা হই।

ইছাখালী যেতেই প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়। আমাদের গাড়িবহর ইছাখালী বাজারের কাছাকাছি পৌঁছলে হঠাৎ করে ৩০-৪০ জন যুবক লোহার রড, রামদা, হকিস্টিক, বড় বড় পাথর নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। প্রথমে একটি বড় পাথর দিয়ে খসরু সাহের গাড়ির সামনের কাচের গ্যাস ভাঙলো। পরে হকিস্টিক দিয়ে গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। খসরু হাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। নুরুল আলম ও শামীম মাথায় আঘাত পেয়েছে। আমি নিজেও আহত হয়েছি, বলেন ফখরুল। ‘আমাদের ওপর আঘাত বড় কথা নয়, এ আঘাত মুক্ত চিন্তা ও গণতন্ত্রের ওপর, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা মুক্তচিন্তা করেন, সরকারের খারাপ কাজের বিরোধিতা করেন, গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার হন তাদের প্রতি এ আঘাত। এ আক্রমণ প্রমাণ করছে সরকার সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ফ্যাসিস্ট ওয়েতে দেশ পরিচালনা করছে।’

আওয়ামী লীগ বলে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এ হামলা প্রমাণ করে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। আমরা সেখানে জনসভা করতে যাচ্ছি না, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে যাচ্ছিলাম। আমাদের ওপর যদি এভাবে হামলা হয় তাহলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা। নিরাপত্তা না থাকায় ফিরে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা রাঙামাটির নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা সেখানে প্রতিবাদ করেছে। আমরা দুর্গত মানুষের জন্য যে ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছিলাম তা বিতরণ করবে। সোমবার সাংগঠনিক সম্পাদক রাঙামাটি যাবেন। মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের প্রতি আমরা সুস্পষ্ট করে বলতে চাই। আজ আওয়ামী লীগের চরিত্র আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে। তারা সবসময় বলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আসলে তারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। সহনশীলতা বলতে তাদের মধ্যে কিছু নেই। আমরা জনসভা বা পার্টির মিটিং করতে যাচ্ছি না। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে যাচ্ছিলাম। সেই পথে আক্রমণ আমাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়েছে। আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। সুস্থ চিন্তা, মুক্ত বুদ্ধির যারা মানুষ রয়েছে তাদের প্রতি এ আক্রমণ ভয়াবহ ঘটনা। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে ফ্যাসিস্ট সরকারকে প্রতিহত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই আমাদের বিজয় হবে।

সরকার বিএনপিকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে না অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, তারা আমাদের কোনো স্পেসই দিচ্ছে না।
রাঙামাটিতে ভয়াবহ যে দুর্যোগ তাতে জাতীয় দুর্যোগ দিবস ঘোষণা দেওয়া উচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, এতগুলো মানুষ মারা গেল। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়নি। কারণ জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দরদ নেই। জবাবদিহিতা নেই। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ সচল হয়নি। ঢিমেতালে কাজ চলছে। এরই মধ্যে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে খাদ্য পাঠানো দরকার ছিল। কিন্তু সেটা আমরা দেখছি না।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, চট্টগ্রামবিষয়ক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

আজকালের খবর/রাসিব


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সুমনা গণি ট্রেড সেন্টার, (৪ তলা) প্লট-২, পান্থপথ (সার্ক ফোয়ারা মোড়), ঢাকা।
ফোন : ০২-৫৫০১৩২১৪ ফ্যাক্স : ০২-৫৫০১৩২১৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৮৭৬৮৪৪২৪, সার্কুলেশন : ০১৭৮৯১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
Web : www.ajkalerkhoborbd.com, www.eajkalerkhobor.com