বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতি মিনিটের দূরত্ব পরিণত হয়েছে ঘণ্টায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Saturday, 17 June, 2017 at 10:14 PM

অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও নির্মাণ কাজের জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ি চলছে থেমে থেমে। অপরদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কে প্রতি মিনিটের পথ পেরুতে ঘণ্টায়। ঈদে নারীর টানে শেকড়ে ফিরতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মহাসড়কে এখনই চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। দিন যত ঘনিয়ে আসবে এই অবস্থা ততই প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কে যানজট লেগেই থাকছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী শত শত ট্রাক সড়কের দুই পাশে কাদা থাকায় সাইড নিতে না পেরে ধীরে ধীরে চলছে। সড়কটিতে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রাক আগের তুলনায় বেশি। সারিবদ্ধ অবস্থায় সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে অনেক ট্রাক। যানজটের কারণে অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যাত্রা করতে হচ্ছে। 

সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন সরকার জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের বংশাই নদীর ওপর সেতুর উভয় পাশ দেবে গেছে। এ কারণে এক লেন করে যানবাহন চলাচল করছে। যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে কোথাও গাড়ি একেবাড়ে দীর্ঘক্ষণ থেমে নেই। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ডাইভারশন করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলছে। বাম দিকে কর্দমাক্ত থাকায় বড় গাড়িগুলো এক লাইন দিয়ে চলছে।

ফলে গাড়ির লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। তবে দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। চন্দ্রাগামী যাত্রী মিজানুর রহমান জানান, তিনি শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে চন্দ্রা যাওয়ার উদ্দেশে বাসে ওঠেন। পৌনে ৯টা পর্যন্ত সোয়া দুই ঘণ্টায় তিনি মৌচাক পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী প্রবেশমুখ চন্দ্রার গোলচত্বর। অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সৃষ্টি হলে গোলচত্বরের তিনমুখী গাড়ির মুখোমুখি অবস্থানে এক অর্থে হয়ে পড়ে তা অকার্যকর। সৃষ্টি হয় যানজট, যা অল্প সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে যায় কয়েক কিলোমিটার। প্রতিবার ঈদে বাড়ি যাওয়া ও কর্মস্থলে আসতে এই পথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। 

গন্তব্যে পৌঁছতে কখনও কখনও ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগার রেকর্ডও রয়েছে। এই মহাসড়কে যানজট নিরসনে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পথ চার লেন করার কাজ শুরু হয়েছে প্রায় দুই বছর ধরে। এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় ৬৮টি কালভার্ট, ২৬টি ব্রিজ, দুটি রেলওভার ব্রিজ এবং তিনটি ফ্লাইওভার রয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা। চার লেনের কাজের অংশ হিসেবে চন্দ্রা ত্রিমোড়, কোনাবাড়ী ফ্লাইওভার ব্রিজ এবং মির্জাপুরের দেরুয়া রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার ব্রিজেরও কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কে এক বছর ধরে যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। ফলে যাত্রীদের এই রুটে চলাচল করতে হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কেই কাটাতে হচ্ছে। পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

অনেক সময় ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগছে তিন-চার ঘণ্টারও বেশি। মহাসড়কে চলমান চার লেনের কাজ অগোছালো থাকাও যানজটের অন্যতম কারণ। বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করা হয়েছে। এসব স্থানে গর্ত করে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে ওই স্থানে পানি জমে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নিত হচ্ছে। উন্নয়নকাজ ছাড়াও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে-মহাসড়কের দুইপাশে শিল্পায়নের কাজ, রাস্তার ওপর হাট-বাজার বসানো, রেলক্রসিং, অবৈধ বাস-ট্রাকস্ট্যান্ড, অবৈধ স্থাপনা আর ধীরগতির ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল। এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে আট কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। 

ধীরগতিতে যান চলাচল করে। শুক্রবার সকাল থেকে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।  গতকাল শনিবার যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। আট কিলোমিটার রাস্তা পার হতে সর্বোচ্চ পাঁচ-ছয় মিনিট সময় লাগার কথা। সেখানে সময় লাগছে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। এই অবস্থায় ঈদে ঘরমুখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছে। ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের চালক আলী আশরাফ জানান, মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা অনলাইন ওয়েব বেইজড এক্সেল লোড স্কেলের কারণে দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে কানড়া পর্যন্ত আট কিলোমিটার পথ পেরোতে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগছে। এই সমস্যা সমাধান না করলে ঈদে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

কুমিল্লাগামী সেতু পরিবহনের যাত্রী আলেয়া বেগম বলেন, রমজান মাসে দীর্ঘক্ষণ বাসে বসে থেকে কোমর ব্যথা হয়ে গেছে। মদনপুর থেকে দাউদকান্দি যেতে স্বাভাবিকভাবে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। দুই ঘন্টা হাঁটলে হয়তো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতাম। যানজটের কারণে চার ঘণ্টা বসে থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পথ আসতে পেরেছি। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজায় ধীরে ধীরে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কে অতিরিক্ত যান চলাচলের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আজকালের খবর/রাসিব



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সুমনা গণি ট্রেড সেন্টার, (৪ তলা) প্লট-২, পান্থপথ (সার্ক ফোয়ারা মোড়), ঢাকা।
ফোন : ০২-৫৫০১৩২১৪ ফ্যাক্স : ০২-৫৫০১৩২১৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৮৭৬৮৪৪২৪, সার্কুলেশন : ০১৭৮৯১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
Web : www.ajkalerkhoborbd.com, www.eajkalerkhobor.com