মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
বাজেট বাস্তবায়নের পরিবেশ নেই -সিপিডি
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
Published : Saturday, 17 June, 2017 at 10:03 PM

বাজেট বাস্তবায়নে সহায়ক পরিবেশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। শনিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিড) আয়োজিত বাজেট সংলাপে  তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আবুল কালাম আজাদ, সাবেক বাণিজমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ। সংলাপ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় বলেন, ‘পুরো বাজেট কাঠামোতে গুণমান সম্পন্ন প্রকল্প ও বিনিয়োগ ইত্যাদি রেখে এর বাস্তবায়ন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট বাস্তবায়নে সহায়ক পরিবেশ দরকার। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নে সুশাসনসহ অন্যান্য খাতে সহায়ক পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি বলেন, মূল মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে বাজেট প্রণয়ন ও বাজেট বাস্তবায়ন অসম্ভব। বাজেটে নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয় অর্থমন্ত্রণালয়কে প্রযুক্তিগতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সক্ষম রূপে দেখিনি। এক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়েরও সেরকম সংস্কার দেখিনি।’ 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি প্রবৃদ্ধি যদি ছয় শতাংশ বা সাত শতাংশের বেশি হয় তারপরও সমস্যা কোথায়। সমস্যাটা হচ্ছে দেশে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ ওই প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করতে পারছে না। এখানে সমস্যা হচ্ছে এ প্রবৃদ্ধির ভিতরে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ যতটুকু আসা দরকার ছিল সেটা আসেনি। এটা বড় কাঠামোগত সমস্যা। তিনি বলেন, আমরা কর্মহীন প্রবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছি। এত প্রবৃদ্ধি নিয়েও আমরা বেকার সমস্যা সমাধান করতে পারছি না। দেশে বর্তমানে বেকারের হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মত প্রকাশ করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। সরকারের হিসাব অনুযায়ী দেশে চার শতাংশ মানুষ বেকার। যা প্রকৃত অর্থে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি।  

আকবর আলি খান বলেন, ‘সরকারের হিসাব মতে আমাদের দেশে চার শতাংশ মানুষ বেকার। যা প্রকৃত অর্থে অগ্রহণযোগ্য। কারণ, বেকার সংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে যারা যথাযথ কর্মসংস্থানের অভাবে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যা মূলত বেকারত্বের মতোই। এই সংখ্যা যদি যোগ করা হয় তাহলে বেকার সংখ্যা ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ হবে। ১৯১৩ সালে আমেরিকায় যখন বেকারের হারে ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল তখন তারা বড় ধরনের অবক্ষয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। আমাদের দেশেও বর্তমানে বেকার সমস্যা উদ্বেগের বিষয়। এজন্য প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর একত্রে কাজ করা উচিত।

বাজেট প্রসঙ্গে আকবর আলি খান বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নে স্বচ্ছতা নেই। অনেক তথ্যই লুকানো হয়। কারণ, অর্থমন্ত্রী নিজেও চান না নতুন কর আরোপের বিষয়ে আগে থেকে মানুষ জানুক। কর আরোপ ও অন্যান্য বিষয়ে সংসদ ও অন্যান্য ফোরামে খুব বেশি আলোচনা হয় না। বাজেটে অর্থমন্ত্রী সাত শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন। এটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, কতটুকু অর্জন করা সম্ভব হবে। তবে ছয় শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ও পাঁচ শতাংশের নিচে মুদ্রাস্ফীতি রাখা অভিনন্দনযোগ্য। আমি বড় বাজেটকে সব সময় স্বাগত জানাই। কিন্তু আমার দৃষ্টি হচ্ছে বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহে সরকার বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কতটুকু দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।’ ভ্যাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিপিডির সঙ্গে আমি একমত এই অর্থে যে, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বেশি হয়ে যায়। ভ্যাট ব্যবস্থায় দলিল রেখে রিবেট নেওয়ার যে সুযোগ রাখা হয়েছে সে বিষয়ে আমি সন্দিহান।

কারণ, এখনো আমদের দেশে অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত মানুষই বেশি। যেমন, বিদ্যুতের মতো পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হলে গ্রাহক  পর্যায়ে দাম বাড়বে। যার নেতিবাচক প্রভাব সবাইকে নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, দেশ ধীরে ধীরে জ্বালানি ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কারণ, আমাদের গ্যাস শেষ হয়ে আসছে, আমাদের কয়লা ব্যবহার হয় না। পরবর্তী পাঁচ-ছয় বছরে জ্বালানি সেক্টরে বিদেশের ওপর আমাদের নির্ভরতা আরও অধিকমাত্রায় বাড়বে। যা একটি বড় সমস্যা। এজন্য সরকারকে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে অধিক সচেতন হওয়া জরুরি। প্রাইভেট বিনিয়োগ বাড়ছে না। কারণ, বেসরকারি খাত সরকারের পক্ষে থেকে প্রণোদনা পাচ্ছে না। তবে সবচেয়ে বড় কারণ ব্যাংকিং সেক্টরের দুর্বলতা। এটা দূর করতে না পারলে আমাদের বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে না।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে পাঁচ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে। এর ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে। এ ছাড়া গ্যাসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। তাই এশিয়ার আন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভ্যাটের হার নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।’ তিনি বলেন, ‘বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের কমই সম্পৃক্ত হতে দেখেছি। সবাইকে সংযুক্ত করে বাজেট বাস্তবায়ন করা জরুরি। বিশেষ করে বাজেট বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের সম্পৃক্ততা কম থাকে। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে এখনো ব্যর্থতা রয়ে গেছে।’

আজকালের খবর/রাসিব


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সুমনা গণি ট্রেড সেন্টার, (৪ তলা) প্লট-২, পান্থপথ (সার্ক ফোয়ারা মোড়), ঢাকা।
ফোন : ০২-৫৫০১৩২১৪ ফ্যাক্স : ০২-৫৫০১৩২১৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৮৭৬৮৪৪২৪, সার্কুলেশন : ০১৭৮৯১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
Web : www.ajkalerkhoborbd.com, www.eajkalerkhobor.com