মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭
অবুঝ সেফটিপিন: পাঠপ্রতিক্রিয়া
নভেরা দিয়া
Published : Friday, 16 June, 2017 at 5:02 PM

অবুঝ সেফটিপিন: পাঠপ্রতিক্রিয়া২০১৬তে প্রকাশিত মাসুম বিল্লাহর ‘অবুঝ সেফটিপিন’ বইটির পাঁখা গজিয়েছে এক বছরে, উড়াল দিয়ে আমার হাতে এসে পৌঁছাল। এ যে পুরো একটা গল্প, কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের জীবন, না পড়ার আগে এই ধারনাও ছিল না।

পুরো বইটি অসম্ভব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্রথম পরিচ্ছেদ মন কেড়ে নিয়েছে। বেশ কয়েকটি কথা ভালো লেগেছে, যেমন- ‘আলম সাহেব তার মেয়ে মধুরিমাকে বলছিলেন- যখনই তোর মন খারাপ করবে, তখন আয়নার সামনে দাঁড়াবি, তুলোর মতো মন খারাপের দল ভেসে যাবে...মেঘের দেশে মেঘপরি হয়ে ভেসে বেড়াবি। বেড়ানো শেষে বাবার কাছে ফিরে আসবি।’

বইটি পড়া শেষ করে ঘুমাতে এলাম, খুব সকালে কাজে ছুটতে হবে, কিন্তু কিছুতেই ঘুমাতে পারছি না, মাথার মধ্যে শুধুই ঘুরপাক খাচ্ছে- মিতু না মধুরিমা? - অন্ধকারের চোরাগলিতে পথচলা মিতুকেই বেশি অনুভব করছি আমি।

-ইকবাল না অর্ক... অর্ককে বেশি ভালো লাগছে আমার। আর আলম সাহেব? এত ভালো একজন বাবা! নিঃসঙ্গ একা। ইকবালের প্রতি মধুরিমার...মধুরিমা আর ইকবাল- শেষের তিন লাইন- “ইকবাল পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছে মধুরিমার দিকে। মধুরিমা মিহি গলায় বলল, ‘তুমি! তুমি আমার ওড়নার অবুঝ সেফটিপিন'।”

প্রতিটি পরিচ্ছেদ পড়ছি, আর পড়ছি, আর মনে হচ্ছিল তারপর কী? তারপর কী?

শাহনাজ বেগম মিতুর মাকে প্রতি পরিচ্ছেদে দুই নামে পেয়েছি। আরেক নাম নাজমা বেগম। লেখকের কি উদ্দেশ্য ছিল জানি না। তবে আমার মনে হয়েছে তার বাস্তব জীবন ও পাশাপাশি অন্ধকার গলির আরেক জীবনকে ফুটিয়ে তুলতে দুই নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চিন্তা করছি- পৃথিবীতে কত চরিত্র, নাজমা বেগমের মতোও থাকে। খুব গভীরভাবে ভাবলে- খুব করুন তার জীবন চরিত্র। তার এই চরিত্রের পেছনে অনেক দুঃখ, কষ্টের কথা লুকানো। এই মহিলার জন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। ইকবালের মা কোহিনূর বেগম গ্রামের সাধাসিধা নিরীহ নিখাঁদ একজন মা।

মাসুম বিল্লাহ, আপনার ‘অবুঝ সেফটিপিন’ চোখ বন্ধ করলেই দেখা যায় এমন একটা গল্পগাঁথা। যতবার ঘুমানোর চেষ্টা করছি ততোবারই একেকজনের চেহারা ভেসে উঠছে মনের পর্দায়।
অর্কের বই ফেরি করার দৃশ্যটা আমার চোখ কান খুলে দিয়েছে। আমারও এখন ইচ্ছে করছে...কিন্তু মানুষের জীবনে কত ইচ্ছা! সব ইচ্ছেরা কি পাখি হয়ে ডানা মেলতে পারে?

ইকবাল সহজ সরল একটা ছেলে- চোখ বন্ধ করলেই মিতু, মধুরিমা সবার চরিত্র বিশ্লেষণ করা যাচ্ছে। আলম সাহেবের স্ত্রীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, তার নিঃসঙ্গ জীবন সব অনুভব করা যাচ্ছে। তবে আলম সাহেব রসিকও বটে। ইলিশ মাছ বিক্রেতার সঙ্গে তার কথোপকথনে বোঝা গেছে। খুব ভালো লেগেছে এই অংশটা- ইলিশে ইলিশের ঘ্রাণ নেই, এ কোন ইলিশ?
- ঠিকই কইছেন চাচা। মুখে দিলে কাদা কাদা লাগে।
- ইলিশকে কেউ হয়ত অভিশাপ দিয়েছে।
- তা কইতে পারুম না চাচা।
- নাকি ইলিশই মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

ধন্যবাদ লেখককে এমন সুন্দর, সাবলিল ভাষায় (পাঠক ধরে রাখা ) লেখা একটি বই এর জন্য। আর ধন্যবাদ লেখকের অবুঝ সেফটিপিন- সুবাইতার আম্মুকে। যে পাশে না থাকলে এত সুন্দর লেখাটি লেখা হতো না। খুশি হবো যদি সুবাইতার আম্মু আমার এই লেখাটুকু পড়েন।

অর্কের একটা কথা দিয়ে শেষ করছিঃ “আমি বড় কোনো স্বপ্ন কোনো কালেই দেখিনি...বেঁচেবর্তে আছি, জীবনটাকে, পৃথিবীটাকে উপভোগ করছি; সময় মেনে চাকরি করা, অন্যের কথা শুনে চলা আমার ধাতে নেই।”
ধন্যবাদ আপনাকেও, বইটি না পড়ে থাকলে, অবশ্যই পড়বেন!


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সুমনা গণি ট্রেড সেন্টার, (৪ তলা) প্লট-২, পান্থপথ (সার্ক ফোয়ারা মোড়), ঢাকা।
ফোন : ০২-৫৫০১৩২১৪ ফ্যাক্স : ০২-৫৫০১৩২১৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৮৭৬৮৪৪২৪, সার্কুলেশন : ০১৭৮৯১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhoborbd.com, www.eajkalerkhobor.com