বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন, ২০১৭
লেখার একটা উদ্দেশ্য তো আছেই
মতিন বৈরাগী
Published : Friday, 16 June, 2017 at 4:58 PM

লেখার একটা উদ্দেশ্য তো আছেই

কেন লিখি এই প্রশ্ন অনেকেই করে। আমার উত্তরে তারা সন্তুষ্ট হতে পারে না। কারণ আমি স্পষ্ট করেই বলি লেখাটা কোনো দৈব ঘটনা নয়। ভাবনাটা আকাশ বাণীও নয়। যা কিছু আমার আবেগ সংশয়হীন বলতে পারি তার কার্য এবং করণ সমাজ, রাজনীতি এবং অর্থনীতিদ্বারা প্রভাবান্বিত।

লেখার একটা উদ্দেশ্য তো আছেই। আর যখন খুব প্যাঁচ কষে তখন তো আমার উদ্দেশ্যের কথাটা বলতেই হয়। তারা তা’ গ্রহণে প্রফুল্ল নয়, তারা বলতে চায় উদ্দেশ্যমূলক সাহিত্যতো আর সাহিত্য নয়, স্টান্ডবাজি। এতে শিল্প ঋদ্ধি থাকে না, হয় ¯েøাগান। ¯েøাগান যে কতো বেশি শক্তিশালী তা তারা ভুলে গেছে, অথচ ¯েøাগান দেয়। ‘এগিয়ে চলে আছি পিছে’ তবুও বলে ¯েøাগান তো আর সাহিত্য নয় শিল্প পদবাচ্যও নয়। আমি তেমন একটা তর্ক করি না কারণ তর্ক করে তো লাভ নেই। তারা মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, পঞ্চপান্ডব, হাল আমলের শক্তি এমন কী সোনালী কাবিন তুলে দেবে। কেউ কেউ আবার বাদলেয়ার, র‌্যাঁবো, এলিয়ট, পাউন্ড, নেরুদা থেকে বলতে বলতে হালে নোবেল বিজয়ী কবিদের তালিকা দীর্ঘ করে ফেলবে। আমি তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি, আমার কিচ্ছু বলা হয় না।

থাকুক এসব কথা, আমি কেন লিখি তাই নিয়ে দু’একটা কথা বলি। আমি লিখি, না লিখে পারি না তার জন্য নয়। আমি লিখি এজন্য যে লেখার মধ্যদিয়ে আমি আমাকে প্রকাশ করি অন্যের কাছে। আর সেই প্রকাশের পিছনে একটা সক্রিয় উদ্দেশ্য আছে তা হলো যা বিশ্বাস করি তাকে সুন্দর করে বলতে এবং পাঠককে শোনাতে। আমি যা ন্যায়ত মনে করি না তাকেও বলতে, আমার দুঃখ-বেদনা, রাগ, ক্ষোভ, দ্রোহ আমার প্রিয় পাঠককে জানিয়ে দিতে- যে জীবন  বইছে তা কেবল মাত্র তার নয়, তা সামাজিক। সমাজ তাকে বড় হতে, পড়তে লিখতে বলতে বুঝতে প্রতিনিয়ত দিচ্ছে দান। সেই দানের সংগে মিশে আছে নানা উপকরণ, আজগুবি বিশ্বাস, সংকীর্নতাা স্বার্থপরতা, হিংসা-হিং¯্রতা, আছে মহত্ব ও মানবিকতা, বস্তু এবং ভাব, যার ন্যায্যকে প্রসারিত করা, কলুসমুক্ত করার চেতনাকে জাগ্রত করা। সমাজ যদি আরো সংহত হতো, আরো বেশি যুক্তিযুক্ত কলুষমুক্ত লোভ-লালসাহীন এবং দুর্বিত্তায়ন হতে মুক্ত হতো তা হলে সে আরো বেশি বেশি পেতে পারতো তার নিজের জন্য তার জীবনের জন্য তার পরিপার্শ্বের জন্য। একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে আমি এমনটাই ভাবি এবং আমার লেখাগুলো মানে কবিতা দু’একটা প্রবন্ধ তা সবই সেই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে। তার কোনোটা হয় তো কিছুটা হয়ে ওঠে কিছু প্রবহমানতায় হারায়। আমি বিশ্বাস করি লেখার প্রেরণা সমাজ জীবন তার মধ্যের ঘটমান ঘটনাবলী যা নিত্য ঘটছে এবং একজন অনুভূতিশীল মানুষের মনজগতে হাতুড়ি পিটাচ্ছে, নিশ্চয় লেখার প্রেরণা কোনো আকাশ থেকে প্রেরিত হয়নি। তাই বলে এমনও বিশ্বাস করি না যে সামান্য যাদের উল্লেখ করলাম তাদের কাছে আমার শিখার কিছু নেই। তাদেরকে জানতে বুঝতে এবং তাদের সৃষ্টির শৈলী, ঋদ্ধি, গঠন, রূপ-রস-সৌন্দর্য সবই আমার কাছে মূল্যবান এ কারণে যে শিল্পের একটা রীতি আছে, প্রয়োগের কৌশলে তা যেমন আনন্দময় হয়ে ওঠে ঠিক তেমনি মানুষের কাছে দ্রæত পৌঁছাতেও পারে। আর যদি তাতে ভাববিলাসের আতিশয্য না থেকে মানুষের প্রকৃত বেদনাগুলোকে ছূঁয়ে দিতে পারে তা’হলে সৃষ্টি প্রসাদগুণ পায়।

তাই সচেতন হয়েই লিখি, বলি বলতে চাই এবং লিখছি চার দশক। আমি মনে করি আমি নির্ধারিত কাজ করছি, আর এতে আমার কোনো রকম সন্তাপ নেই প্রাপ্তি হীনতার কোনো বেদনাও নেই। কারণ আমি কোনো কিছু পাবার জন্য লিখি না, না লিখে পারি না তাও না।


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : সুমনা গণি ট্রেড সেন্টার, (৪ তলা) প্লট-২, পান্থপথ (সার্ক ফোয়ারা মোড়), ঢাকা।
ফোন : ০২-৫৫০১৩২১৪ ফ্যাক্স : ০২-৫৫০১৩২১৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৮৭৬৮৪৪২৪, সার্কুলেশন : ০১৭৮৯১১৮৮১২
ই-মেইল : newsajkalerkhobor@gmail.com, addajkalerkhobor@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhoborbd.com, www.eajkalerkhobor.com